গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৫৩ তম দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।
ঘটনাবলি
১৯৫২ : ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা শহীদ মিনার বানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৫৮ : মিশর ও সিরিয়া যুক্ত হয়ে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র গঠন করে কবে।
১৯৭৪ : পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি সম্মেলন শুরু হয়। সেখানে পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক একযোগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
জন্ম
১৭৩২ : জর্জ ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
১৮২৭ : ভূদেব মুখোপাধ্যায়, বাঙালি শিক্ষাবিদ চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
১৮৫৭ : রবার্ট ব্যাডেন পাওয়েল, বিশ্বব্যপী স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
১৮৫৭ : হেনরিখ হার্টজ, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী।
১৮৮৭ : মুকুন্দ দাস, বাঙালি চারণকবি।
১৮৯৮ : অতুল বসু, প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী।
১৯০৬ : পাহাড়ী সান্যাল, বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯২২ : দীপালি নাগ, রাগপ্রধান গানের প্রথম মহিলা বাঙালি শিল্পী।
১৯৪৩ : গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সুরকার ও গীতিকার।
১৯৬২ : স্টিভ আরউইন, অস্ট্রেলীয় প্রকৃতিবাদী ও টিভি ব্যক্তিত্ব।
মৃত্যু
১৯০৩ : অস্ট্রীয় সুরকার হুগো উলফ।
১৯০৪ : ইংরেজ লেখক ও সমালোচক লেসলি স্টিভেন।
১৯৪৪ : মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী।
২০০৬ : ইরাকি সাংবাদিক আতওয়ার বাহজাত ।
গাজী মাজহারুল আনোয়ার
দেশের প্রখ্যাত গীতিকার,পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বিশ হাজারের বেশি গান লিখেছেন তিনি, যা বিস্ময়কর ও অসাধারণ এক সাফল্য। একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল, একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, জন্ম আমার ধন্য হলো ইত্যাদি গাজী মাজহারুলের গানের মধ্যে অন্যতম। এছাড়া গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে, আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল, যার ছায়া পড়েছে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, ও পাখি তোর যন্ত্রণা, ইশারায় শীষ দিয়ে, চোখের নজর এমনি কইরা, এই মন তোমাকে দিলাম- এর মতো আধুনিক বা সিনেমার গান তার লেখনি থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।
জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। ১৯৬২-৬৩ সালে যখন তিনি মেডিকেল কলেজে পড়েন তখন লিখেছিলেন তার প্রথম গান। ১৯৬৪ সালে রেডিও পাকিস্তানে গান লিখে ৫০ টাকা আয়ের মাধ্যমে তার পেশাদার গীতিকার জীবন শুরু। আর ১৯৬৫ সালে যুক্ত হন চলচ্চিত্রের সাথে। সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি দিয়ে চলচ্চিত্রের গান লেখা শুরু গাজী মাজহারুল আনোয়ারের।
মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধ, প্রেম, বিরহ, স্নেহ; অনুভূতির বৈচিত্রময় প্রকাশে কয়েক দশক ধরেই এদেশের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় এ গীতিকার। বিবিসি বাংলার তৈরি করা করা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তাঁর লেখা তিনটি গান। গানের বাইরেও তিনি বিকশিত হয়েছেন একজন চলচ্চিত্র চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকবার গীতিকার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক, এস এম সুলতান স্মৃতি পদক, একাধিকবার বাচসাস পদকসহ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ২০০২ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন তিনি।
গাজী মাজহারুল আনোয়ার ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
সূত্র: সংগৃহীত
