ছবি তুলেই দায়িত্ব শেষ করলেন তারা!

কোয়ান্টাম দাফন টিমের কাছে এসএমএস এলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। রাজধানীর নামকরা একটি হাসপাতালে মারা গেছেন এক ভদ্রমহিলা। করোনা উপসর্গ ছিল তার। কিন্তু তখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি করোনা সংক্রমণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে কিনা।
স্বেচ্ছাসেবীরা হাসপাতাল পৌঁছে দেখলেন, খুব যত্নে লালিত একটি দেহ নিথর পড়ে আছে হাসপাতালের কেবিনে। নিঃসঙ্গ মৃতদেহ। বয়স তার ৫৫ বছর। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছিল, অনেক কম বয়সী। মৃত্যুশয্যায়ও ছিলেন পরিপাটি পোশাক পরা। সর্বাঙ্গে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট।
পাশেই টেবিলে রাখা ছিল ফয়েল পেপারে মোড়ানো দামি কোনো হোটেলের খাবার। সারা রুমে সেই খাবারের ঘ্রাণ। হয়তো আগ্রহ করেই আনিয়েছিলেন সেই খাবার। কিন্তু খেতে পারলেন না। চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
দাফন টিমের মহিলা সদস্যরা হাসপাতালের কেবিনেই তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। সব নিয়ম মেনে কাফনের কাপড় পরানো হলো। তারপর হাসপাতালের খাটিয়াতে করে বাইরে নিয়ে আসা হলো লাশ।
এসময় মৃত মহিলার ছেলে এবং ভাই এসেছেন হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে। তাদেরকে দেখেও বোঝা গেল, বেশ অভিজাত পরিবারের সদস্য। তারা অনুরোধ করলেন মৃতার মুখ দেখাতে। তাই প্যাকেট করার পর আবারো খোলা হলো বডি ব্যাগ।
এসময় মৃত মহিলার ছেলে এবং ভাইকে দোয়া পড়তে অনুরোধ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। কিন্তু অদ্ভুত হলেও বাস্তবতা ছিল, তারা দোয়া পড়ার পরিবর্তে ছবি তোলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এরপর তারা তাদের অন্যান্য আত্মীয়দের ভিডিও কল করে লাশের মুখ দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
আত্মীয়দের মধ্যেও কোনো কান্নাকাটি নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত ব্যস্ততা ছিল ভিডিও/ ছবি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে নাকি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সেটা নিয়ে। এভাবে তারা ভিডিও/ ছবি তোলায় অনেকক্ষণ পার করলেন। পাশে দাঁড়িয়ে পিপিই পরিহিত স্বেচ্ছাসেবীরা ঘামছিলেন দরদর করে।
পরিশেষে স্বেচ্ছাসেবীদের অনুরোধে তারা ভিডিও কল এবং ছবি তোলার পর্ব শেষ করলেন। তাদেরকে বলা হলো, নামাজে জানাজা হবে কবরস্থানে। কিন্তু তাদের সমস্ত মনোযোগ সদ্য তোলা ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মধ্যেই সীমিত ছিল! কবরস্থানে যেতেও রাজি হলেন না তারা।
স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেরাই লাশ নিয়ে যান কবরস্থানে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে দোয়া করেন তারা। তারপর আপনজনের মমতায় সেই লাশ দাফন করে ফিরে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *