জাতপাতের বৈষম্য অবসানে নবীজী (স)

নবীজীর (স) যদি দেখি ক্রীতদাস এবং শ্রমিকের অধিকারের ব্যাপারে তাঁর সচেতনতা কেমন ছিল?

সাম্য প্রতিষ্ঠায় নবীজীর (স) ভূমিকার প্রভাব

তিনি বলেছেন, মজুরি নির্ধারণ না করে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করবে না। যদি নিয়োগ করো সে যা চায় তা-ই তাকে দিতে হবে। সে জামানায় নিম্নবর্ণের মানুষ, মজুর শ্রমিক ক্রীতদাস, এদের জীবনের যে বঞ্চনা-লাঞ্ছনা এর কোনো অভাব ছিল না।

দাস মুক্ত করা এটাকে নবীজী (স) সবচেয়ে পুণ্যের কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যে-কোনো কেউ অপরাধ করলেই প্রথমে বলতেন যে, তোমার যদি দাস থাকে তাহলে দাস মুক্ত করো। যে দাস তোমার অধীনে থাকবে তুমি যা খাবে তাকে তা-ই খেতে দিবে, তুমি যা পরবে তাকে তা-ই পরতে দেবে।

এখন আপনার দাসকে যদি আপনি যা খান তা-ই খাওয়ান আর আপনি যা পরেন তা-ই পরতে দেন, তাহলে সে কি আর দাস থাকে? যে কারণে যখন হযরত ওমর জেরুজালেমে যাচ্ছেন তার দাস আর তার পোশাক খলিফা আর দাসের পোশাক একই। দাস উটের পিঠে, খলিফা হেঁটে। দাসকেই মনে করছে খলিফা আসছে। এই যে সাম্য প্রতিষ্ঠা এটা তাঁর পক্ষেই সম্ভব।

জাতপাত বৈষম্য অবসানের ঘটনা

তাঁর সময় ক্রীতদাসরা, এই যে জায়েদ ক্রীতদাস ছিলেন। তাঁর সন্তান ওসামা বিন জায়েদ। নবীজীর (স) জীবনের শেষ ভাগে যখন রোম সম্রাট প্রথমবার তো আক্রমণ করার পরিকল্পনা করলেন, নবীজী (স) নিজে তাবুকে গেলেন ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে। একজন আরব যে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করতে পারেন।

তখন রোমান সম্রাট ছিলেন হেরাক্লিয়াস। তিনি দুই লক্ষ সৈন্য সমাবেশ করেছেন এবং তার বিপরীতে রসুলুল্লাহ (স) সৈন্য সমাবেশ করলেন ৩০ হাজার। সেই মরুভূমি সেই খাঁ খাঁ রোদ সেই উত্তাপ তার মধ্যে। তিনি সৈন্য সমাবেশ করে একমাস অপেক্ষা করলেন, কিন্তু রোমান সম্রাট আর সাহস করলেন না যুদ্ধ করার জন্যে। নবীজী (স) ওখান থেকে ফিরে গেলেন।

নবীজী (স) ফিরে আসার পরে আবার যখন রোমান সম্রাট পায়তারা করছেন তখন জায়েদের পুত্র ওসামা, আরব অভিজাত আবুবকর ওমর খালেদ ওসমান, এই অভিজাতদের বাদ দিয়ে জায়েদের পুত্র ওসামাকে তিনি এই যুদ্ধের সেনাপতি মনোনীত করলেন।

যুদ্ধযাত্রা করার আগেই রসুলুল্লাহর (স) ওফাত হলো। যখন হযরত আবুবকর খলিফা হলেন, তখন যারা অভিজাত তারা বলল যে, এখন যেহেতু রসুলুল্লাহ (স) নাই এবং যুদ্ধযাত্রা করতে হবে। এখন আরো কোনো অভিজ্ঞ কাউকে সেনাপতি মনোনীত করেন।

হযরত আবুবকর বলেছিলেন যে, রসুলুল্লাহ (স) যাকে সেনাপতি মনোনীত করে গেছেন আমি খলিফা হতে পারি কিন্তু আমি তার নেতৃত্বেই যুদ্ধযাত্রা করব। অর্থাৎ এই জাতপাতের অবসান তিনি করেছিলেন।

[প্রজ্ঞা জালালি, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮]