বাংলাদেশে গড়ে প্রতি পাঁচ জনে একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত…
আজকের সাদাকায়নে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আসলে বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থাটা কী? বর্তমানে বাংলাদেশে ১৯ শতাংশ মানুষ বা গড়ে প্রতি পাঁচ জনে একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। এদের মধ্যে জটিল রোগীর সংখ্যা এক শতাংশ। বাকিদের প্রধান সমস্যা মূলত উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিষণ্নতাবোধ শুচিবায়ু ভয়ভীতি নিঃসঙ্গতা ইত্যাদি।
শিশুদের ক্ষেত্রে এডিএইচডি। অর্থাৎ অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার একটিভিটি ডিজঅর্ডার। এবং মোবাইল ইন্টারনেট আসক্তি অন্যতম মানসিক সমস্যা। এবং এটা যে শুধু শিশুদের তা না প্রবীণদেরও অন্যতম সমস্যা এটা।
এবং প্রবীণদের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম এবং বিষণ্নতার মূল উপাদান কিন্তু এই আসক্তি। কারণ এখনকার দাদা-দাদিরা নানা-নানিরা নাতি-নাতনির সাহচর্য পায় না তারা স্ক্রিনের সাহচর্য পায় এবং স্ক্রিনের সাহচর্যের মধ্যে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।
দেশে প্রতি এক কোটি মানুষের জন্যে আছে ২০ জন প্রফেশনাল সাইকিয়াট্রিস্ট!
এদের চিকিৎসাব্যবস্থা কী? আমাদের দেশে সাইকিয়াট্রিস্টের সংখ্যা হচ্ছে চারশ জন। যারা প্রফেশনাল সাইকিয়াট্রিস্ট। তার মানে প্রতি এক কোটি মানুষের জন্যে ২০ জন এবং সাইকোলজিস্ট কাউন্সিলার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রশিক্ষিত নার্সের সংখ্যা যোগ করার পরেও দেখা যাচ্ছে যে, মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা এক হাজারেরও কম। যে কারণে মানসিক সমস্যা আক্রান্ত তিন কোটি মানুষের ৯২ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়।
এটা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরিপ। প্রকাশ হচ্ছে ১৬ অক্টোবর ২০২৫ অর্থাৎ লেটেস্ট ইনফরমেশন।
পাশ্চাত্য স্বাস্থ্যসেবায় মনোদৈহিক সুস্থতা নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে কেন?
তো এখন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, এটার জন্যে আধুনিক চিকিৎসা কী করে? পাশ্চাত্য স্বাস্থ্যসেবা, তাদের সমস্যা হচ্ছে তারা খুব প্রফেশনাল। মানসিক সুস্থতা ফিরে পেতে তারা কী করেন? অনেকে কাউন্সেলিং এবং সাইকোথেরাপির দ্বারস্থ হন।
কিন্তু মনোদৈহিক সুস্থতা নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কেন?
এক. সাইকিয়াট্রিস্টরা মূলত ওষুধ নির্ভর আর সাইকোথেরাপিস্টরা কাউন্সেলিং নির্ভর। দুটোর দুই ভিন্ন ধারা।
দুই. সাইকোথেরাপির ক্ষেত্রে বৃটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস। এনএইচএস হিসাব অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ সালে এই থেরাপিতে অংশ নিতে এসেছে ১২ লক্ষ মানুষ কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে ছয় লক্ষ ৭২ হাজার জন। তরুণদের মধ্যে ড্রপ আউটের সংখ্যা আরো বেশি।
অর্থাৎ সাইকোথেরাপি ফুল সেশন তারা কন্টিনিউ করে না। ড্রপ আউট হয়ে যায়। যেখানে এনএইচএস-র যে সার্ভিস, এই সার্ভিস হচ্ছে ফ্রি সার্ভিস।
এবং সাইকোলজি টুডে যেটা সাইকোলজিস্টদের পত্রিকা তাদের রিপোর্ট হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ কাউন্সেলিংয়ের সবগুলো সেশন তারা সম্পন্ন করেন না। না করার কারণে কী হয়? আবার ঘুরে ফিরে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
বাংলাদেশে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য
তো আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যনীতি অধ্যাদেশ জারি হলো ২০২২ সালে। উদ্দেশ্য কী রূপকল্প কী? যে ব্যক্তির ক্ষমতায়ন পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ভিত্তিতে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন রোগ প্রতিরোধ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করাই জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যনীতির রূপকল্প।
এবং অবজেক্টিভটা কী? মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার সকল স্তরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যে সমন্বিত সেবা সহজলভ্য করা ঝুঁকিপূর্ণ নাজুক জনগোষ্ঠীর জন্যে স্বাস্থ্যসেবার পরিসর বৃদ্ধি করা।
মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ ও এ সম্পর্কিত নেতিবাচক ভ্রান্তধারণা সমূহ মোকাবেলা সমক্ষমতা বৃদ্ধি করা এটা হচ্ছে আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি অধ্যাদেশের, মূল লক্ষ্য হচ্ছে এটা।
আগামী পাঁচ বছরে প্রত্যেক ঘরে বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষ পাওয়া যাবে- অধ্যাপক জোবেদা খাতুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক জোবেদা খাতুন। এর মধ্যে আমাদের একটা সেশন নিয়েছিলেন, বেসিক থেরাপিউটিক কাউন্সেলিং স্কিল ট্রেনিং প্রোগ্রাম। তাতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী পাঁচ বছরে প্রত্যেক ঘরে বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষ পাওয়া যাবে।
সাইকোথেরাপিস্ট হিসেবে তিনি যে সাজেশন দিয়েছেন…
তো এটার জন্যে সাইকোথেরাপিস্ট হিসেবে সাজেশন হচ্ছে কাউন্সেলিং।
এবং তিনি কাউন্সেলিংয়ের মূল কথা বলতে গিয়ে বলেছেন যে, এটা হচ্ছে একটিভ লেসিং যে শুনতে হবে। কার কথা? যিনি রোগী তার কথা শুনতে হবে। আরো কী কী করতে হবে না করতে হবে তা নিয়ে বেশ সুন্দর জ্ঞানগর্ব পরামর্শ দিয়েছেন এবং শেষদিন দিন শেষে তিনি যে কথাটি বলেছেন, এ থেকে বোঝা যায় যে, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাপ্রসূত প্রজ্ঞা যে, কাউন্সেলিংও লাগে না যদি ব্যক্তি ফিল করে যে, তার পাশে কেউ আছে এবং তার হাত ধরে টেনে তোলার কেউ আছে। অর্থাৎ আশ্রয়গ্রহণ করতে পারে, ভরসা করতে পারে, এইরকম একজন মানুষ আছে।
সাইকোথেরাপিস্টদের থেরাপির সবচেয়ে কঠিন কাজ- রোগীর মনে বিশ্বাস তৈরি করা!
আমাদের একজন গ্রাজুয়েট সাইকোথেরাপি নিয়ে উচ্চতর লেখাপড়া করছেন। কোয়ান্টাম মেথড কোর্সে এসেছেন সাম্প্রতিককালে। তিনি বললেন যে, ক্লিনিক্যাল সাইকোথেরাপিতে সাধারণত ১৬টি সেশন থাকে। এই ১৬টি সেশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যে, রোগীর মনে বিশ্বাস তৈরি করা যে, তিনি সুস্থ হবেন।
তো তিনি তার টিচারদের সাইকোথেরাপিস্টদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, আমি সুস্থ হবো বা আমি সমস্যাটা থেকে মুক্ত হতে পারব, এই বিশ্বাসটা রোগীর ভেতরে সৃষ্টি করা, এটাই থেরাপির সবচেয়ে কঠিন কাজ।
কারণ এখান থেকে শুরু হয় সত্যিকারের নিরাময় প্রক্রিয়া কিন্তু সাইকোথেরাপিস্টরা প্রায়শই এই স্টেপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। কোয়ান্টাম মেথড কোর্স সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা যে, আমি দেখলাম অংশগ্রহণকারীরা প্রথমদিন থেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, আমি নিজেকে বদলাব, আমি সুস্থ হবো, সফল হবো, আমি পারব, আমি করব।
তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে ১৬টা সেশনের কনক্লুশন? রোগীর মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করা আস্থা সৃষ্টি করা যে, সে সুস্থ হবে- তিনি এসে দেখেছেন প্রথমদিনই একটা বড় অংশের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে গেছে, যা তাকেও প্রভাবিত করেছে। যেহেতু তিনি সাইকোথেরাপি নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
কোয়ান্টাম এই কাজটাই করছে ৩৩ বছর ধরে…
এবং শরীর মন দুটোই যে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেটা এখন তার বাতায়নে লিখেছেন। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি নাইনটিন নাইনটি থ্রি থেকে এবং ৭৫ ভাগ রোগ যে মনোদৈহিক এটা আমরা বলে আসছি নাইনটিন নাইনটি থ্রি থেকে।
তো আমরা যখন শুরু করেছিলাম ৩৩ বছর আগে কোয়ান্টাম মেথড তখন আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটা ছিল অভিনব। এবং অনেকেই মনে করত যে এটা সব পাগলামি অবৈজ্ঞানিক কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত যে কত ঠিক ছিল এবং আমাদের সিদ্ধান্ত যে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল সেটা এখন প্রমাণিত সত্য।
কারণ আমরা যে কথাগুলো বলেছি সেইসময় এখন জাতীয় আমাদের স্বাস্থ্যনীতি হলো অধ্যাদেশ হলো ২০২২ সালে। অলমোস্ট ৩০ বছর পরে।
একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দৃষ্টিতে কোয়ান্টাম
আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমাদের যে ভূমিকা কতখানি কত ইম্পর্টেন্ট চমৎকার একটা ঘটনা দিয়ে সেটাকে বলি।
আমদের এক তরুণ সহযোদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আমাদের সাথে কাজে যোগ দিয়েছেন। তো তিনি তার এক কাজিনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছেন। কাজিনের হাজবেন্ড পেশায় ইঞ্জিনিয়ার।
তো কাজিনের হাজবেন্ড যেহেতু, তার মানেটা কী? সম্পর্কে দুলাভাই। তিনি খোঁচানোর চেষ্টা করলেন খোঁচা দিচ্ছেন। যে, তুমি কোয়ান্টামে কাজ করো, এটার ভবিষ্যৎ কী? অন্য কিছুতো করতে পারতে ইত্যাদি ইত্যাদি। তো স্বাভাবিকভাবে আমাদের কোনো সহযোদ্ধা এই সব প্রশ্নের কোনো ইনজয় করে কিন্তু কোনো জবাব দেয় না। চুপ। এর মাঝখানে তার আরেক কাজিন মেহমান, তার চেয়ে বয়সে বড়, তিনি কার্ডিওলজিস্ট। তিনি এসে উপস্থিত।
তো কাজিনের হাজবেন্ড পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন যে, এ কোয়ান্টামে কাজ করে। তারপরে একটু পিঞ্চ করতে শুরু করেছেন।
এর মধ্যে এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, তিনি বলল যে, আহ! আপনি কোয়ান্টামে কাজ করেন। কোয়ান্টাম তো আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেক দায়িত্ব নিয়ে ফেলছে। আমি আমার রোগীদেরকে নিয়মিত কোয়ান্টাম কোর্স করার জন্যে পাঠাই। তারা আগের চেয়ে ভালো আছে।
ঐ কার্ডিওলজিস্ট কিন্তু আমাদের গ্রাজুয়েটও নন, এসোসিয়েটও নন। কিন্তু তিনি জানেন যে, কোয়ান্টাম মেথড চর্চা করে মানুষ সুস্থ হচ্ছে, মানুষ ভালো আছে।
আসলে আমাদের সামাজিক প্রবাহ এবং গ্রহণযোগ্যতা এখন কোন পর্যায় সেটা আসলে আমরা ধারণা করতে পারি না, বুঝতে পারি না যে, আমাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কোন পর্যায় আছে। যেখানে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যিনি গ্রাজুয়েট না, মাস্টার না, এসোসিয়েটও না। তার দৃষ্টিতে হচ্ছে এটা।
কোয়ান্টাম বাংলাদেশে একটা নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে- ড. মো. শাহিনুল আলম
আসলে আমরা আমাদের নীরব কাজ, এই কাজের মাত্রাটাই আমরা বুঝি না। আমাদের কাজের মাত্রাটা কীভাবে বুঝি না? এই যে রক্তদান।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. মো. শাহিনুল আলম গবেষণার ভিত্তিতে জানালেন যে, কোয়ান্টাম বাংলাদেশে একটা নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। তারা রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।
গত বছর বলেছেন তিনি যে, স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের ফলে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি-এর সংক্রমণ ৫০ শতাংশ কমে গেছে। আমরা নীরবে কাজ করছি। ৫০ শতাংশ কমা কিন্তু মুখের কথা না। যেখানে বাড়ার আশঙ্কা ছিল, সেখানে গত ২৫ বছরে এটা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আপনাদের নীরব কাজের ফলে, কোয়ান্টাম যে নীরব কাজ করে নীরব বিপ্লবের ফলে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কোয়ান্টাম একটা বিপ্লব ঘটিয়েছে…
এবং একইভাবে আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কোয়ান্টাম একটা বিপ্লব ঘটিয়েছে। আমাদের দেশে যদি আমরা না থাকতাম। ধরুন মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মোট কর্মীর সংখ্যা কত? এক হাজারের কম। আমরা আলহামদুলিল্লাহ ছড়িয়ে আছি সমাজের সকল স্তরে। এবং আমাদের কাজটা কী, আমাদের কাজ তো এই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নীরব বিপ্লব আমরা ঘটিয়েছি। যে কারণে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তিনি বলছেন যে ৫০ ভাগ দায়িত্ব তো কোয়ান্টামই নিয়েছে।
তো আসলে আমরা মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কেন? আমরা এই করতে পারলাম, এটার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের সঙ্ঘবদ্ধতা। আমাদের সাদাকায়ন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হেলথ এনআইএইচ সঙ্ঘ চেতনা নিয়ে কী বলছে?
আমেরিকান মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে ন্যাশানাল অ্যালায়েন্স অব মেন্টাল ইলনেস, তাদের পর্যবেক্ষণ হলো কোনো সঙ্ঘ বা কমিউনিটিতে একাত্ম থাকলে সঙ্ঘের অন্যদের উৎসাহ ও সমমর্মিতা তাকে হতাশা কাটিয়ে উঠতে এগিয়ে যেতে এবং ভালো অভ্যাসগুলো ধরে রাখতে সহযোগিতা করে। এটা সাম্প্রতিক অবজার্ভেশন। আর আমরা এই অবজার্ভেশনকে কাজে লাগাচ্ছি কত বছর ধরে? ৩৩ বছরে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হেলথ এনআইএইচ ১,৬৪৭ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছে উদ্বেগ, ডিপ্রেশন ও স্ট্রেস মোকাবেলায় তারাই এগিয়ে থাকেন যাদের রয়েছে সেন্স অব কমিউনিটি। অর্থাৎ সেন্স অব কমিউনিটি মানে সঙ্ঘ চেতনা বা কমিউনিটি ফিলিংস।
সাদাকায়নের সুবিধাটা কী ?
আমরা বলতে পারি সারা পৃথিবীতে সাদাকায়ন, সাদাকায়ন হচ্ছে একটা ইউনিক প্রোগ্রাম। একেবারেই ব্যতিক্রম।
১. যিনি থাকবেন তার ড্রপ আউট হওয়ার সুযোগ নাই!
সাদাকায়নের সাথে যিনি থাকবেন তার ড্রপ আউট হওয়ার সুযোগ নাই। কারণ না এলেও তাকে কী করা হয়, যারা এসেছে তারা তাদের খোঁজখবর নেয় না নেয় না, নেয়।
তো আসলে আপনি যতকিছুই শেখেন যখনই চর্চা বন্ধ হবে উপকার থেকে বঞ্চিত হবেন। সাদাকায়নের সুবিধাটা কী? এই প্রোগ্রামে কোয়ান্টামের যারা সদস্য এসোসিয়েটস গ্রাজুয়েট মাস্টার সবাই মেডিটেশন ও ইতিবাচকতার চর্চা ধরে রাখতে পারেন। তাদের কিছু মানুষের সাথে সমমর্মিতার সম্পর্ক তৈরি হয়। যারা তার মঙ্গল চায়, তাদের টানে তিনি সঙ্ঘে আসেন এবং ভালো থাকেন।
সিডিসি, এনআইএইচ এবং হু একই পরামর্শ দিয়েছে- Contact with other people!
এবং বৃটেনের এসএইচএস মানসিক স্বাস্থ্যের প্রথম পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে কন্টাক্ট উইথ আদার পিপল। আমেরিকার স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারণী সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং পৃথিবীর বৃহত্তম স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই একই পরামর্শ দিয়েছে যে, কন্টাক্ট উইথ আদার পিপল।
তারা আরো কিছু পরামর্শ দিয়েছে, যেমন: মানসিকভাবে ভালো থাকতে মনের জোর বাড়াতে হবে। এইজন্যে কী করতে হবে? ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে, জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে, মেডিটেশন করো, দম চর্চা করো এবং বি গ্রেটফুল; শোকরগোজার হও।
২. সাদাকায়নে এলে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকবে না
তো এখন সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিচ্ছে আমরা আল্লাহর দয়া আল্লাহর রহমত আমরা ৩৩ বছর আগে থেকে মানুষকে সেই পরামর্শ শুধু দিচ্ছি না আমরা সেই পরামর্শ যাতে তিনি পালন করতে পারেন সেইজন্যে আমরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছি।
এবং আমরা খুব ভালোভাবে বলতে পারি যে, নিয়মিত সাদাকায়নে আসুন। খুব একটা চেষ্টা ছাড়াই এই চর্চাগুলো আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে। শুধু সাদাকায়ন মিস করবেন না, সাদাকায়নে নিয়মিত আসবেন। এবং মানসিক স্বাস্থ্যগত যে সমস্যা এই সমস্যা থাকবে না।
কেন? এখানে আমরা আমরা শুধু শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী না, আমরা আত্মিক স্বাস্থ্যকর্মীও। আমরা দেহ মন আত্মার যত্ন কীভাবে নিতে হয় সেই চর্চাই আমরা করছি এবং সাদাকায়ন হচ্ছে আমাদের এই পারস্পরিক যোগাযোগ, পরস্পর হাত ধরা যে আমরা আছি তোমার পাশে, আমরা আছি সবার পাশে।
৩. আমরা আছি সবার পাশে- সাদাকায়নে এই ফিলিংসটা জোরদার হয়
এবং আমাদের এই সবার পাশে যে ফিলিংসটা আমাদের সাদাকায়নে মেডিটেশনে সবচেয়ে বেশি জোরদার হয়। কারণ মেডিটেশনের শেষ ১০ মিনিট হচ্ছে পরস্পরে জন্যে দোয়া এই যে কানেকশন মেন্টাল কানেকশন পরস্পরের সাথে।
তো আমরা আমরা আসলে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি না আমরা স্বাস্থ্যসেবাটাকে আমাদের সংস্কৃতির অংশে রূপান্তরিত করছি। যেরকম রক্তদানকে আমরা সংস্কৃতির অংশে রূপান্তরিত করেছি এবং আমরা পরম করুণাময়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যে তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে আমাদেরকে সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত করার সুযোগ তিনি দিয়েছেন। কারণ এই স্বাস্থ্যসেবাটা আমরা দিচ্ছি সাদাকায়নে সবার জন্যে উন্মুক্ত সবাইকে ফ্রি। যে কারণে এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ।
৪. সাদাকায়ন গ্রুপথেরাপিরও কাজ করে
আসলে সাদাকায়ন আমরা যদি বলি সাইকোথেরাপির ভাষায় তো এটা হচ্ছে গ্রুপথেরাপির কাজ করে। একাকিত্ব ভয়াবহ শূন্যতা থেকে মানুষকে মুক্ত রাখে। যখন একজন মানুষ অনুভব করে যে, সে একা নয়। তার শক্তি বহু গুণ বেড়ে যায়, বাধাবিপত্তি মানসিক চাপ উদ্বেগ, যাই আসুক সে আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবেলা করতে পারে। সে পায় সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন।
তো এতক্ষণ আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্যে আপনাদের আপনাদেরকে আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাদেরকে কত মহান কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।
[আর্ডেন্টিয়ার ওয়ার্কশপ, ২৪-২৫ অক্টোবর ২০২৫]
