মোহাম্মদ আবুল বাশার, ফরিদপুর প্রতিনিধি
ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়ে অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বাতিল এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার, ব্যবসায়ীদের সচেতন করা এবং ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বিক্রিতে নিরাপদ পাত্র ব্যবহারের বিষয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর পৌরসভার হলরুমে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান-এর সভাপতিত্বে সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক সচিব এ.এইচ.এম. শফিকুজ্জামান।
ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান মোহাম্মদ ইফতিখার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এপিডেমিওলজি ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মদ হাই জকি, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হালিম সহ স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে নিরাপদ পাত্র ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। অনিরাপদ ড্রামে ভোজ্যতেল রাখা ও বিক্রির ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পর্যায়ক্রমে অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে বাজার কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পাত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকির আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনিক নজরদারি নয়, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়ে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে সভায় মতামত দেওয়া হয়।
