শিক্ষার্থীরা বিষন্ন কেন ? দায়ী কে বা কারা ?

বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মূল সমস্যা কী কী?
শিক্ষার্থীদের বিষন্নতা বা ডিপ্রেশনের জন্য কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ দায়ী করা যায় না। এটি একটি জটিল সমস্যা, যার পেছনে ব্যক্তিগত, সামাজিক, শিক্ষাব্যবস্থা এবং পারিবারিক নানা কারণ জড়িত। নিচে কিছু প্রধান কারণ ও দায়িত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
আসলে এই সমস্যাগুলোর উত্তরণের পথ বের করার জন্যেই আজকের আলোচনা। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মূল সমস্যা কী? এ থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে?
অনেক অনেক ইম্পর্টেন্ট পয়েন্ট সমস্যা উঠে আসে। তার মধ্যে আত্মহত্যা একটা, ডিভাইস আসক্তি একটা। তারপরে নৈতিক অবক্ষয় ও আক্রমণাত্মক উগ্রমনোবৃত্তি একটা। মাদকের সহজলভ্যতার জন্যে মাদক আসক্তে আক্রান্ত। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্তি। রোল মডেলের অভাবে জীবনে লক্ষ্যহীনতা।
বই পড়া ও জ্ঞানার্জনে অনীহা, ক্লাসরুমে অনুপস্থিতি, পরীক্ষাভীতি। শিক্ষকের সামাজিক অবমূল্যায়ন শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের মনোভাবের অভাব। সমন্বয়হীন কারিকুলাম সিলেবাস ও মূল্যায়ন পদ্ধতি। শিক্ষা কেন্দ্রে রাজনীতি, কোচিং বাণিজ্য। শিক্ষার উদ্দেশ্য অভিভাবকের হচ্ছে উপার্জন, শিক্ষার্থীর হচ্ছে পাশ, শিক্ষক হচ্ছে ইনকাম।
একটা করুণ ঘটনা : মেয়েটি এখন মানসিক রোগী!
এবং কিছু কিছু ঘটনাও আসছে খুব করুণ। একটা মেয়ের উল্লেখ রয়েছে। ছোটবেলা থেকে মেয়েটির গানের অসাধারণ প্রতিভা। জাতীয় পর্যায় বিভাগীয় জেলায় সব পর্যায়ে প্রথম সেরা হতো। যখন যা চাইতো বাবা-মা সব দিতো। ইচ্ছা পূরণে কষ্ট হলেও পূরণ করত।
বাবার শুধু একটি কম্পিউটারের দোকান ছিল, মা একটি স্কুলে চাকরি করতেন। মেয়েটি কখনো তার মনের কথা বলার মানুষ পায় নি। মোবাইলে অভ্যস্ত ছিল।
একসময় এক ছেলে প্রলোভন দেখালে তার কথা শুনতে থাকে। ছেলেটি নিজেকে অনেক ধনী হিসেবে উপস্থাপন করত সে বলত তার ঠিকাদারি ব্যবসা আছে। অনেক সময় বিল আটকে আছে বলে মেয়েটির কাছ থেকে টাকা নিত। মূলত ছেলেটি ছিল মাদকাসক্ত। তত দিনে মা-বাবা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। মেয়েটির মোবাইল কেড়ে নেয় ও মেয়েটিকে নজরদারিতে রাখা হয়।
মেয়েটি এখন মানসিক রোগী। রিহ্যাবে আছে। মা-বাবাকে সহ্য করতে পারে না।
তো আসলে এই মেয়েটির এই অবস্থার জন্যে মা-বাবার দায়িত্ব কোনো অংশেই কম নয়।
ভালো স্কুল নয় প্রয়োজন ভালো লেখাপড়া!
তারপরে আত্মহত্যার যে ব্যাপারটা আসছে…ভালো স্কুল নয় প্রয়োজন ভালো লেখাপড়া।
শিক্ষার্থীদের বিষণ্ণ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ এবং দায়ী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হলো:
১. আর্থিক সমস্যাঃশিক্ষার্থীদের বিষণ্ণতার পেছনে আর্থিক সমস্যা, একটি বড় কারণ হতে পারে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই শিক্ষার্থীরা নানা রকম আর্থিক চাপের মুখোমুখি হয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনেক পরিবার দারিদ্র্যের কারণে তাদের সন্তানদের স্কুলে রাখতে পারে না। তারা মনে করে যে সন্তানরা কাজ করে আয় করলে তা
পরিবারের জন্য বেশি উপকারী হবে । দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা বা সমাজে হতাশার সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে। টিউশন ফি ও শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ মেটানো কঠিন ,থাকা-খাওয়ার সমস্যা, পারিবারিক আর্থিক সংকট,বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তার ভাব,সামাজিক চাপ ও বৈষম্য,চাকরি বা আয়ের অনিশ্চয়তা।
এই সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের উপায়: সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বৃত্তি ও শিক্ষা ঋণের সুবিধা বাড়ানো। পার্টটাইম কাজ বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ তৈরি করা। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা (কাউন্সেলিং) সহজলভ্য করা। আর্থিক সচেতনতা বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী জীবনযাপনের কৌশল শেখানো। রাষ্ট্র, সমাজের অসমতা, অর্থনৈতিক নীতির ত্রুটি। সরকারি সহায়তার অভাব, সমাজে দারিদ্র্য, এবং পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা। শিক্ষার্থীদের বিষণ্ণতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আর্থিক সমস্যা যেন তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার না করে, সে জন্য সহায়ক নীতি ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
২. শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারানো এবং শিক্ষাব্যবস্থার চাপঃ
অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে বুঝতে পারে না যে তারা পড়াশোনা শেষ করে কী করবে। তাদের সামনে কোনও স্পষ্ট লক্ষ্য না
থাকায় তারা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ।
পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা: গ্রেড এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সৃজনশীলতার অভাব: রোট memorization (গবেষণা ছাড়া মুখস্থ) পদ্ধতি শেখার আনন্দ কেড়ে নেয়। মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শক্তি ও অনুপ্রেরণার অভা্‌ পড়াশোনায় অনিয়মিত হওয়া,সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও সহায়তার অভাব,পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত চাপ ও উদ্বেগ,আত্মসম্মান কমে যাওয়া,
কীভাবে সাহায্য পাওয়া যাবে? কাউন্সেলিং বা থেরাপি: স্কুল/কলেজের কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া রুটিন মেনে চলা: ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধীরে ধীরে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
সামাজিক সহযোগিতা: বন্ধু, পরিবার বা শিক্ষকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা।
ডাক্তারের পরামর্শ: প্রয়োজন হলে মেডিকেল সাহায্য নেওয়া (অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ইত্যাদি)।
শিক্ষানীতি প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ, স্কুল-কলেজের প্রশাসন। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল পরিকল্পনা, ক্যারিয়ার গাইডেন্সের অভাব, এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব।
৩. নিরাপত্তার অভাব (বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য)
বিষণ্নতা ও নিরাপত্তাহীনতা, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে এই বিষয়টির উপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে হয়রানির শিকার হয়, যা তাদের স্কুল ছাড়তে বাধ্য করে। অনেক সময় বাবা-মা মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য বাল্যবিয়ে দিয়ে দেন ।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৮০% শিক্ষার্থী বিষণ্নতায় ভুগছে, যার মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হার ছেলেদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ । এই বিষণ্নতার পেছনে কর্মসংস্থান的不确定性, ইন্টার্নশিপের অভাব এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও যৌন হয়রানির আশঙ্কায় আরও বেশি মানসিক চাপে থাকে ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতা*কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তাহীনতা,আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ,মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতা ও নিরাপত্তাহীনতা কাটাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যেখানে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজের সকল স্তরের অংশগ্রহণ জরুরি। নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করলেই কেবল নারী শিক্ষার্থীরা তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবে।
৪. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতাঃ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষন্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বর্তমানে একটি গুরুতর বিষয়, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা বা সচেতনতার অভাব এই সমস্যাগুলোকে আরও তীব্র করে তোলে। নিচে এই বিষয়ে কিছু মূল কারণ, প্রভাব ও সমাধানের উপায় আলোচনা করা হলো:
কিশোর বয়সে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের সময় অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে ভোগে। নির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায় তারা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে, যেমন কিশোর গ্যাং । মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা,শারীরিক স্বাস্থ্যের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা, সামাজিক চাপ ও প্রতিযোগিতা,পরিবারে বা বন্ধুদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার অভাব।
প্রভাব: একাগ্রতা ও পড়াশোনার দক্ষতা কমে যায়। আত্মবিশ্বাস হ্রাস পায় এবং সামাজিক সম্পর্কে সমস্যা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। দায়ী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অভাব, পরিবারের অবহেলা, এবং সরকারি নীতির ঘাটতি। বিষন্নতাকে অনেকেই “সাময়িক দুঃখ” ভাবে, পেশাদার সাহায্য নেওয়া হয় না। সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব।
৫. কারিগরি শিক্ষার অভাবঃ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সাধারণ শিক্ষা কার্যকর নয়, কিন্তু কারিগরি শিক্ষার সুযোগ কম থাকায় তারা স্কুল ছেড়ে দেয় । দায়ী: শিক্ষা নীতিতে কারিগরি শিক্ষার প্রসারের অভাব এবং শিল্প খাতের সাথে সমন্বয়হীনতা।
৬. স্কুলের পরিবেশ এবং শিক্ষার মানঃ অনেক স্কুলে শিক্ষার মান নিম্ন এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে ।দায়ী: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা এবং স্কুল প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা।
৭.পারিবারিক প্রত্যাশা ও চাপঃ অনেক অভিভাবক অযৌক্তিক প্রত্যাশা রাখেন (যেমন: “শুধু A+ গ্রেড চাই”)। সন্তানের আবেগিক প্রয়োজনকে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। দায়ী: অভিভাবকদের অসচেতনতা, সমাজের কুসংস্কার।
শিক্ষার্থীদের বিষণ্ণ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ জড়িত থাকায় সমাধানও বহুমুখী হতে হবে। সরকার, সমাজ, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে এই সমস্যা মোকাবেলায়।
খুব কাছের একজনের কথা বলছি। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে আমার ননশের একমাত্র মেয়ে ১৪+ সে আত্মহত্যা করে। কারণ তার মা চেয়েছিল মেয়ে যেন অবশ্যই ভালো ও স্বনামধন্য স্কুলে পড়তে পারে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো বলা যেতে পারে কোটিপতি পরিবারের একমাত্র মেয়ে। এখন একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা পাগল হয়ে বিছানায় পড়ে থাকে সারাক্ষণ।
সন্তানের সমস্যার দায়টা যৌথ, একক নয়ঃ আসলে এটার কারণটা কী? যে ভালো এবং স্বনামধন্য স্কুলে পড়তে হবে। আসলে খুব অজপাড়া গায়ের স্কুল থেকে পড়ে কলেজ থেকে পড়ে মেডিকেলে ভর্তি হচ্ছে এরকম উদাহরণ কিন্তু একটা দুটো না প্রচুর আছে।
তাহলে আসল সমস্যাটা কোথায়? সন্তানের সমস্যার জন্যে সন্তান যতটা দায়ী প্যারেন্ট অভিভাবকের দায়িত্বও কোনো অংশে কম নয়। দায়ীটা যৌথ দায়ীটা একক নয়। তো আমার এক পরিচিত শিক্ষার্থী ২০২২ সালে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সবসময় মা-বাবা ঝগড়া করত তাকে আলাদা বাসায় রাখত ছেলেটা তার ফুপুর বাসায় থেকে বড় হয়। ক্লাসে কম কথা বলত। সে সবসময় হীনম্মন্যতায় ভুগত। গত বছর সে আত্মহত্যা করে মারা যায়।
আমার পরিচিত এক ভদ্রলোক তার দুই ছেলে পাঁচ বছর আগে তার বড় ছেলে প্রতিবেশীর এক মেয়ের সাথে প্রেমে জড়িয়ে যায়। ছেলের মা-বাবা মেনে নেয় নাই মেয়েটিও আসতে করে সরে পড়ে। ছেলেটি আত্মহত্যা করে। ছেলের মরদেহ দেখে মা স্ট্রোক করে এবং প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে যায়।
দ্বিতীয় ছেলে আরেক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। বাবা মেনে নেয় নি। মেয়েটি ছেলের বাবার কথা শুনে কেটে পড়ল। এমতাবস্থায় এই ছেলেও আত্মহত্যা করল। এই খবরে মা এখন কোমায় আছেন।
সন্তানের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয় কখন?
আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আপনাদের সমস্ত এনালাইসিস পড়ে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয় কখন? দেখেন এই যে তরুণ-তরুণীরা প্রেম করে কখন? যখন কারো ব্যাপারে কৌতূহল জাগে। কৌতূহল না জাগলে কিন্তু প্রেম করতে পারবে? প্রেমও করতে পারবে না সে।
এবং এখনকার অধিকাংশ এজন্যে প্রেমও করতে পারে না। কারণ সে প্রেম বোঝেই না সে রিলেশন বোঝে। এবং রিলেশন যে কতজনের সাথে করে এবং জানে কার কার কার সাথে রিলেশন আছে তারপরও রিলেশন সে করছে। কারণ তার কৌতূহল নাই।
তো এই কৌতূহলটা হচ্ছে খুব ইম্পর্টেন্ট। সাবজেক্টের প্রতি কৌতূহল বিষয়ের প্রতি কৌতূহল জীবনের প্রতি কৌতূহল।
সমাধানের উপায়:
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে।
বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নীতি ও অভিযোগ প্রক্রিয়া স্থাপন ।
মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। ইন্টার্নশিপ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের সাথে সমন্বয় করতে হবে।
ব্যক্তিগত কারণঃ জিনগত প্রবণতা, ব্যর্থতা বা সম্পর্কের সমস্যাও ডিপ্রেশন ট্রিগার করতে পারে।
সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওপেন ডিসকাশনকে উৎসাহিত করা। স্কুলে ক্যারিয়ার ,শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং সেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম চালু করতে হবে।
কাউন্সেলিং সেবা প্রসারিত করা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিদ বা কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া। শিক্ষাব্যবস্থায় মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা (কাউন্সেলিং) বাড়ানো।
অনলাইন কাউন্সেলিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো। প্যারেন্টিং এডুকেশন:
অভিভাবকদের সচেতন করা যাতে তারা সন্তানের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারেন এবং সহায়তা করতে পারেন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় করে লিঙ্গসমতা ও নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ।
সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ট্যাবু ভাঙা। শিক্ষার্থীদের শেখানো কিভাবে চাপ ম্যানেজ করতে হয়।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন উৎসাহিত করা: নিয়মিত ব্যায়াম,পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। মাইন্ডফুলনেস, মেডিটেশন বা ইয়োগা চর্চা করা।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্কতা: বাস্তব জীবনের সাথে ভারসাম্য রাখা এবং অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এড়ানো।
শিক্ষার্থীদের বিষন্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেলে শিক্ষার্থীরা সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারবে। মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক দায়িত্বও বটে।
দায়ী: সমাজে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব।
মূল বার্তা: দায় একার নয়, সমষ্টিগত। সমস্যা সমাধানও সমন্বিত প্রচেষ্টা চায়।

তথ্য সূত্রঃ কোয়ানটাম শিক্ষক ওয়ার্কশপ, ২৬ মে, ২০২৩, গুগল,(মাইন্ড ইন্জিনিয়ারিং-আশরাফ-উদ-দৌলা) ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *