ইতিহাসের পাতায় ৩১ জানুয়ারি

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩১তম দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৯৬৮ : নাউরু স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৭২ : বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হাঙ্গেরি, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি এবং নিউজিল্যান্ড।

জন্ম
১৮৪৭ : শিবনাথ শাস্ত্রী, বাঙালি সাহিত্যিক শিক্ষাবিদ সমাজ সংস্কারক ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক।
১৮৬৮ : থিওডোর উইলিয়াম রিচার্ডস, নোবেলজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ।
১৮৮১ : আর্ভিং ল্যাংমিউয়র, নোবেলজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ।
১৯০২ : আলভা রেইমার মিরডাল, নোবেলজয়ী সুইডিশ সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ।
১৯০৪ : মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন, বাংলাদেশি লোকসঙ্গীত, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লোকসাহিত্যবিশারদ।
১৯২৯ : রুডল্‌ফ ম্যোসবাউয়ার, নোবেলজয়ী জার্মান পদার্থবিদ।
১৯৩৫ : কেন্‌জাবুরো ওয়ে, নোবেলবিজয়ী জাপানি লেখক।
১৯৪৫ : অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, বাঙালি শিক্ষাবিদ।

মৃত্যু
১৯৫৫ : নোবেলবিজয়ী আমেরিকান ওয়াইএমসিএ নেতা জন আর মট।
১৯৬৮ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষক ড. সুশীল কুমার দে।
১৯৭২ : নেপালের রাজা বীর বীরেন্দ্র বাহাদুর।
১৯৭৩ : নোবেলবিজয়ী নরওয়েজিয়ান অর্থনীতিবিদ রাগনার ফ্রিসচ্‌।
২০১২ : বাংলাদেশের পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ সিদ্দিকা কবীর।

অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবির
সিদ্দিকা কবির ছিলেন পুষ্টিবিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী, উপস্থাপক ও লেখক। তাকে বলা হয় বাংলাদেশে টেলিভিশনে রান্নার অনুষ্ঠানের পথিকৃৎ। ‘রান্না কেবল নেহাত প্রয়োজন নয়, এটি একটি শিল্প’ এই ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। গুনী এই অধ্যাপিকা রান্নাবান্নাকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নীত করতে নিরলস কাজ করেছেন। টিভি অনুষ্ঠানে মজার মজার রেসিপি ও রান্নার ওপর বিভিন্ন বই লেখার মাধ্যমে সিদ্দিকা কবির সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩১ সালের ৭ মে ঢাকাতে। বাবা মৌলভি আহমেদুল্লাহ। মায়ের নাম সৈয়দা হাসিনা খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫৬ সালে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ইডেন গার্লস কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬১ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ নিয়ে ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে খাদ্য ও পুষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমএস ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে ১৯৬৩ সালে ঢাকায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হিসেবে যোগদান করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সৌখিন এই অধ্যাপিকা খাদ্য ও পুষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে লিখেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তার লেখা রেসিপির বই ঘরে ঘরে সমাদৃত হয়। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রান্না খাদ্য পুষ্টি, খাবার-দাবার কড়চা, পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থা, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্না (সম্পাদনা), বাংলাদেশি কারি কুক বুক ইত্যাদি। তিনি ২০০৪ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার লাভ করেন।

সিদ্দিকা কবীর ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকাতে মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *