গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৭৪ তম (অধিবর্ষে ২৭৫ তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।
ঘটনাবলি
১৮৫৪ : ভারতবর্ষে সরকারিভাবে ডাকটিকিট ব্যবস্থা চালু হয়।
১৯৪৯ : গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা হয়।
১৯৬০ : নাইজেরিয়া ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৯৯ : বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’ পথচলা শুরু হয়।
২০০১ : বাংলাদেশে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
জন্ম
১৮৬১ : নীলরতন সরকার, ব্রিটিশ ভারতীয় চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ।
১৮৮১ : উইলিয়াম এডওয়ার্ড বোয়িং, বোয়িং বিমান কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা।
১৯০৬ : শচীন দেববর্মণ, ভারতীয় সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী।
১৯২০ : আবুল হোসেন মিয়া, বাংলাদেশি ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক।
১৯২১ : এআরএম ইনামুল হক, বাংলাদেশের প্রথম মরণোত্তর চক্ষুদানকারী।
১৯৩৫ : কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৪০ : মনজুরে মাওলা, কবি ও প্রাবন্ধিক।
মৃত্যু
১৯৪২ : বাঙালি, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী ব্রজমোহন জানা।
১৯৪৭ : স্পেনের কবি ও নাট্যকার গ্রেগোরিও মার্তিনেজ সিয়েরা।
১৯৭১ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সাফিল মিয়া।
দিবস
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস।
বিশ্ব নিরামিষ দিবস।
কবি আবুল হোসেন মিয়া
আবুল হোসেন মিয়া ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক, তিনি শিশুতোষ সাহিত্যে খ্যাতিমান ছিলেন। কর্মজীবনে মূলত শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭৮ সালে সাহিত্যকর্মের জন্যে ‘কবি শেখর’ উপাধিতে ভুষিত হন।
জন্মগ্রহণ করেন ১৯২০ সালে ১ অক্টোবর মাদারীপুর জেলার রাজৈরের কুঠিবাড়ি গ্রামে। বাবা নাম কবিরাজ সোনামুদ্দীন মিয়া এবং মায়ের নাম হাজেরা খাতুন। শৈশব-কৈশোরে তিনি রাজৈর ও মাদারীপুরে পড়ালেখা করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি বরিশাল বি.এম কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। বি.এ পাস করেই সরকারি স্কুলে চাকরি নেন। বরিশালে জিলা ইশকুল, গভ. ল্যাবরেটরি স্কুল ও আর্মানিটোলা হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে এম.এ পাস করে প্রথম তেজগাঁও, পরে নটরডেম কলেজে অধ্যাপনা করেন। অবসর গ্রহণ করে তিনি গ্রামে ফেরেননি। শুধু লেখালেখি, ছাত্রদের পড়াশোনার কারণে খুব অল্প টাকায় একটি সিটভাড়া করে ঢাকাতেই থেকেছেন। তার কবিতা ছড়া ও গল্পে গ্রামের প্রকৃতি ও মানুষের কথা, আনন্দগাঁথার চিত্র ফুটে ওঠে।
শৈশব থেকেই তিনি লেখালেখির শুরু। পত্র-পত্রিকাতে তার লেখা ছাপা হতাে। কোনো হৈ চৈ নয়, নিভৃতে-নীরবে লেখাটি পৌঁছে দিতেন বিভাগীয় সম্পাদকের টেবিলে। ছাপা হলে খুশি হতেন, না ছাপা হলে কোনো দুঃখ ছিল না। এভাবেই লেখা প্রকাশিত হয়েছে দীর্ঘকাল। অবশেষে বাংলাবাজার থেকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম ছড়ার বই ‘তালবেতালের ছড়া।’
আবুল হোসেন মিয়া লিখছেন প্রচুর। সেসময়কার মাসিক কচি-কাঁচা, টাপুর-টুপুর, মাসিক মুকুল, খেলাঘর, সবুজ পাতা ছাড়াও সকল পত্রিকায় শিশু-কিশোরদের জন্যে তিনি নিয়মিত লিখেছেন। আবুল হোসেন মিয়ার যত লেখা প্রকাশিত হয়েছে সে তুলনায় তার বইয়ের সংখ্যা কম।
সবুজ গায়ে সবুজ ও তালবেতালের ছড়া এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ‘একটু খানি’ শিরোনামে একটি ছড়া-কবিতার বই প্রকাশ করে। ছোটদের জন্যে লেখা এসব বই ছাড়াও স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে কবি আবুল হোসেন মিয়া’র বেশ কয়েকটি লেখা তালিকাভুক্ত ছিল। নিজের বই প্রকাশের জন্যে পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকের কাছে ধরণা দেয়া মোটেই পছন্দ করতেন না। এতো লিখেও তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ। ছোটদের জন্যে লেখা তার এ কবিতাটি দীর্ঘদিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল-
‘একটু খানি স্নেহের কথা একটু ভালোবাসা
গড়তে পারে এই দুনিয়ার শান্তি সুখের বাসা।
একটু খানি অনাদর আর একটু অবহেলা
ঘুচিয়ে দিতে পারে সবার সকল লীলাখেলা
একটু খানি ছোট্ট শিশুর একটু মুখের হাসি
মায়ের মনে, সবার প্রাণে বাজায় সুখের বাঁশি’।
কবি আবুল হোসেন মিয়া ছিলেন ছোটদের প্রিয় মানুষ। তিনি শিশু-কিশোরদের খুব ভালোবাসতেন, কাছে ডেকে আদর করতেন। তিনি নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ছোটদের পড়াতেন। বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা গ্রহণ করতেন না। নির্লোভ এ মানুষটি সবসময় হৈ-হুল্লোড় এড়িয়ে চলতেন। সারা জীবনই ছাত্র-ছাত্রীদের সত্যিকার আদর্শবান মানুষ হওয়ার জন্যে উপদেশ দিতেন। অহংকারীদের পছন্দ করতেন না। সহজ-সরল জীবন-যাপন করা তিনি খুব পছন্দ করতেন।
সাহিত্যে অবদানের জন্যে বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে-
অবনী স্মৃতি পদক, কোলকাতা
শিশুসাথী পুরস্কার
যশোর সাহিত্য সংসদ কর্তৃক ‘কবি শেখর’ উপাধি লাভ
গৌরবঙ্গ সাহিত্য পরিষদ, কোলকাতা কর্তৃক ‘কবি শেখর’ উপাধি লাভ
মরণোত্তর মাদারীপুর জেলা শিশু একাডেমি কর্তৃক সম্মাননা ইত্যাদি।
কবি ছিলেন সাদাসিধে মানুষ। সারা জীবন তিনি শহরেরই কাটিয়েছেন কিন্তু তার লেখা ও আচরণ থেকে গ্রামের সজীব স্পর্শ কখনো মুছে যায়নি। মৃত্যুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের বাসায় ভাড়া করা একটি রুমে থাকতেন। মৃত্যুর আগে অসুস্থ হয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান এবং দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০০০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সূত্র : সংগৃহীত
