কনজ্যুমারিজম মানুষকে কীভাবে শোষণ করে?

কনজুমারিজম বা ভোগবাদ মানুষকে মূলত তিনটি স্তরে শোষণ করে:

১. কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি: বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং অসন্তোষ তৈরি করে—আপনার যা আছে, তা যথেষ্ট নয় বলে বোঝানো হয়। নতুন পণ্য না কিনলে আপনি ‘পিছিয়ে পড়বেন’ বা ‘অস্বস্তিকর’ অবস্থায় থাকবেন, যদিও পুরনো পণ্যটি সম্পূর্ণ কাজ করে।

২. ঋণ ও আর্থিক দাসত্ব: কিস্তি, ক্রেডিট কার্ড এবং ঋণের সুবিধা দিয়ে মানুষকে বর্তমান আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করতে বাধ্য করা হয়। ফলে ঋণের বোঝা তৈরি হয়, যা থেকে বের হতে গেলে আরও বেশি কাজ করতে হয়—এটি এক ধরনের আর্থিক শৃঙ্খল।

৩. পরিচয় ও মূল্যবোধের বাণিজ্যিকীকরণ: ‘তুমি কী কিনছ, সেটাই তুমি’—এই বার্তা দিয়ে ভোগবাদ ব্যক্তির আত্মমর্যাদাকে পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করে ফেলে। ফলে মানুষ নিজের পরিচয় গড়ে তোলে ব্র্যান্ড, গাড়ি, পোশাক বা গ্যাজেটের মাধ্যমে, যা এক অনন্ত প্রতিযোগিতা ও অনিরাপত্তার জন্ম দেয়। আরও গভীর স্তরে, ভোগবাদ সম্পদ ও উৎপাদনের উপায়কে কেন্দ্রীভূত করে—বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো মুনাফা তোলে, আর ভোক্তা থাকে নির্ভরশীল, ঋণগ্রস্ত ও ক্রমাগত অসন্তুষ্ট। এর থেকে মুক্তির উপায় হলো সচেতন ক্রয়, প্রয়োজন ও বিলাসিতার পার্থক্য জানা, এবং বিকল্প অর্থনীতি (যেমন শেয়ারিং ইকোনমি, পুনঃব্যবহার) সমর্থন করা।

পুঁজিবাদ : বর্তমান সভ্যতার সবচেয়ে বড় রোগ

কার্ল মার্কস তিনি আসলে প্রথম দার্শনিক যিনি বর্তমান সভ্যতার আসল রোগটাকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন।

বর্তমান সভ্যতার আসল রোগ হচ্ছে পুঁজিবাদ। এই পুঁজিবাদীদের মুনাফার লোভের শিকার হচ্ছে সারা পৃথিবীর মানুষ এবং আমরা বলি যে অমুকে স্বৈরশাসক তমুকে স্বৈরশাসক! আসল স্বৈরশাসক তো হচ্ছে প্রযুক্তি দানবরা এবং খাদ্য দানব এবং ওষুধ দানব (ড্রাগ মাফিয়া)।

পুঁজিবাদকে অনেক সমালোচক ‘নীরব স্বৈরশাসক’ বলেন, কারণ এটি ভোগ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষকে এতটাই ব্যস্ত রাখে যে প্রকৃত শোষণ অদৃশ্য হয়ে যায়। আসল বিষয়টি হলো: প্রকৃত শোষক: একটি স্বচ্ছল ও ক্ষমতাধর গোষ্ঠী, যারা উৎপাদনের মূল উপকরণ—কারখানা, ভূমি, প্রযুক্তি ও মিডিয়া—নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে। তারা সরকার, আইন ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে তাদের স্বার্থ রক্ষা করে। খালি চোখে এই গোষ্ঠীকে সহজে দেখা যায় না, কারণ তারা পর্দার আড়ালে থাকে।

আসল স্বৈরশাসক কে বা কারা?

তো বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি প্রযুক্তি কোম্পানি খাবার কোম্পানি। এরা হচ্ছে আসল স্বৈরশাসক জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে তারা শোষণ করে তাদের পুঁজির জন্যে আরকি। তো কার্ল মার্কস এই পুঁজিবাদকে শনাক্ত করেছিলেন।

তো আসলে এরা শোষণ করে কীভাবে? এরা হয় মাতিয়ে রাখে অথবা তেতিয়ে রাখে আরকি। মাতিয়ে রাখে নেশা দিয়ে আর তেতিয়ে রাখে নেশার কারণে যে সে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই ক্ষোভটাকে আবার চাঙা করে দিয়ে।

শোষকরা মাতিয়ে রাখে তেতিয়েও রাখে!

মাতিয়ে এবং তেতিয়ে এর মধ্যে খবর দেখলাম। ১০ বছরের ছেলে উত্তরবঙ্গ থেকে কোথায় মোবাইল স্মার্টফোন পাওয়া যায় ইউটিউব দেখে সমস্ত ঠিকানা দেখে তার বাবার জমানো ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চলে এসছে ঢাকায় এবং সেই দোকানের সামনে এসে মার্কেটে এসে ঘোরাঘুরি করছে।

তো দারোয়ান সন্দেহ করেছে- এরকম ঘোরাঘুরি করে কেন? তারপরে টাকাপয়সা দেখে পুলিশে খবর দিয়েছে।

তো জিনিসটা বুঝতে পারছেন? মাতিয়ে রাখা অথবা তেতিয়ে রাখা।

মাতিয়ে এবং তেতিয়ে কীভাবে হয়? চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে এই পুঁজিবাদীরা আমাদেরকে মাতিয়ে এবং তেতিয়ে রাখে।

লাইফস্টাইলের কারণেই রোগ এখন বাড়ছে…

খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন নো ড্রিংকিং নো ভেপিং নো স্মোকিং নো ড্রাগস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- ৭০ ভাগ রোগ হচ্ছে অসংক্রামক এগুলোকে বলা হয় লাইফস্টাইল ডিজিজ আসলে এই হেলদি লাইফস্টাইল বা সায়েন্টিফিক লাইফস্টাইল মানে হচ্ছে কোয়ান্টাম লাইফস্টাইল।

লাইফস্টাইল জাল: ফাস্ট ফ্যাশন, সর্বশেষ মডেলের ফোন, প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন—এসব ‘সাধারণ’ বলে প্রচার করা হয়, কিন্তু এগুলোর পেছনে কাজের চাপ, পরিবেশ ধ্বংস ও ঋণের ফাঁদ থাকে। · স্বাস্থ্য ও রোগ: আপনার ঠিক বলা—প্রক্রিয়াজাত খাবার, আসীন জীবন, দীর্ঘ কাজের সময় ও বায়ু দূষণ কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ায়, কিন্তু ডায়াবিটিস, হৃদরোগ, মানসিক অবসাদ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়। এসব রোগের চিকিৎসা আবার আরও শোষণের সুযোগ তৈরি করে। ‘তেতিয়ে রাখে’ মানে: মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষুদ্র সুখ (শপিং, সিরিজ, সোশ্যাল মিডিয়া লাইক) পেয়ে এতটাই অভ্যস্ত যে বড় অসংগতি (অসম বণ্টন, জলবায়ু ধ্বংস, শ্রম শোষণ) তারা অনুভবই করে না। প্রতিবাদীরা ‘বিরক্তিকর’ বা ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। মুক্তির পথ: সমষ্টিগত সচেতনতা, বিকল্প ব্যবস্থা গঠন (সহযোগী অর্থনীতি), প্রয়োজনভিত্তিক জীবনযাপন এবং স্থানীয় স্বনির্ভরতা।