সমস্যা মিটে গেলেই বাঁচি : ভুল দৃষ্টিভঙ্গি।

আমাদের জীবনে প্রতি মুহূর্তে কোন না কোন সমস্যা আসে। জীবনে সমস্যা আসতে পারে। সমস্যা আসবে, চ্যালেঞ্জ আসবে। এটা স্বাভাবিক।
কিন্তু যা-ই আসুক, অর্থাৎ এনি সিচুয়েশন, প্রত্যেকটা পরিস্থিতি, প্রত্যেকটা সমস্যা, প্রত্যেকটা চ্যালেঞ্জ, হাসিমুখে ফেস করতে হবে। কারণ সমস্যা যখন আসে, এটার দুটো দিক থাকে। এক হচ্ছে-ক্রাইসিস, দুই হচ্ছে নিউ পসিবিলিটিজ।
যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কাজ করে, যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে তাদের জন্যে যে-কোনো ক্রাইসিস নতুন পসিবিলিটিজ সৃষ্টি করে।
আবার যারা প্রো-একটিভ, যে-কোনো সমস্যা থেকে সে তার বেনিফিট নিয়ে নিতে পারে।
সমস্যা এলে আমাদের নরমাল এটিচুড যেটা হয় যে, এটা থেকে নিষ্কৃতি পেলেই বাঁচি। সমস্যাটা মিটমাট হয়ে গেলে বাঁচি।
কিন্তু একজন বীর, একজন কর্মী, তার এটিচুড কি হওয়া উচিত? তার এটিচুড এমন হওয়া উচিৎ যে, সমস্যা এসেছে এখান থেকে আমি কী বেনিফিট নিতে পারি?
অর্থাৎ সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। একজন একটা মামলা করেছে মামলা ডিসমিস হয়ে গেল। খারিজ হয়ে গেল। এটা কোনো বিষয় না।
বিষয় হচ্ছে, এই মামলা থেকে আমি বেনিফিটটা কী নিতে পারি। অর্থাৎ এই সমস্যা থেকে আমি বেনিফিটটা কী নিতে পারি। আমি কী কল্যাণ নিতে পারি?
বুদ্ধিমান মানুষ তা-ই করে। সে সবসময় সমস্যাটাকে তার বেনিফিটে নিয়ে যায়। সমস্যা ক্রিয়েট করে একজন। কিন্তু বেনিফিট নেয়, কল্যাণ নেয় সে; যে বুদ্ধিমান।
তাই সবসময় কী করতে হবে? এনি প্রবলেম। এনি সিচুয়েশন। এনি হাঙ্গামা।
আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে, এটা থেকে আমার বেনিফিটটা কী? আমি কী বেনিফিট নিতে পারব? এখান থেকে কী বেনিফিট আমার নেয়া উচিত? কী কল্যাণ আমার নেয়া উচিত? নিজের জন্যে। সঙ্ঘের জন্যে। মানুষের জন্যে।
আপনি দেখবেন যে, খুব চমৎকারভাবে আপনি ‘সেইল’ করে যাবেন। চমৎকারভাবে আপনি ‘নাও’ বেয়ে চলে যাবেন। অন্যরা তাকিয়ে থাকবে।
ধরুন, এই করোনা- অভাবিত একটা পরিস্থিতি! একটা ভুয়া জিনিস নিয়ে এইরকম আতঙ্ক এর আগে কখনো মানুষ সৃষ্টি করতে পারে নাই!
এবং আমাদের জন্যেও অভাবিত পরিস্থিতি ছিল!
কিন্তু আল্লাহর রহমত। আমরা প্রথমেই বুঝতে পারলাম- এটা একটা ভুয়া জিনিস। শুধু আতঙ্ক।
মূল ভাইরাস হচ্ছে আতঙ্ক। ভাইরাসের যা পাওয়ার, তা থেকে আতঙ্কের পাওয়ার আরো বেশি।
তো আমরা কী করলাম?
আমরা কিন্তু সমস্ত বিশেষজ্ঞদের বিপরীতে ‘উই আর দি অনলি ভয়েস।’
সংগঠিত ভয়েস। অনেক ব্যক্তি এ নিয়ে কাজ করেছেন। কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো সঙ্ঘ/প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা ছিলাম সারা পৃথিবীতে একমাত্র প্রতিষ্ঠান।
আমরা বলেছিলাম যে, আসলে এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। এটা জাস্ট নরমাল ফ্লুর চেয়ে একটু বেশি।
আমরা বলেছিলাম যে, উই স্ট্যান্ড বাই, আমরা আছি আপনার পাশে। আমরা যাচ্ছি না কোথাও, আমরা আছি।
এবং আমরা কোথাও যাই নাই। ১২৭ দিন আমি অফিস থেকেই নড়ি নাই। বাসায়ও যাই নাই। কেন? একজন সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করতে পারে না।
আর যুদ্ধক্ষেত্র যে ছেড়ে যায়, সে সৈনিক না।
সনাতন ধর্মে কী বলে? সনাতন ধর্ম বলে, একজন ক্ষত্রীয়ের মৃত্যু হবে রণক্ষেত্রে। রণক্ষেত্রে মৃত্যু না হলে সে ক্ষত্রীয় না।
সে-ই নিম্নমানের ক্ষত্রীয়, যে রণক্ষেত্রে মারা না গিয়ে এমনি মারা গেল! হোঁচট খেয়ে মারা গেল!
আমরা দেখলাম, একটা নিউ সিচুয়েশন এরাইজ করেছে। এই সিচুয়েশনের মধ্যে আমরা কীভাবে সৃষ্টির সেবা করতে পারি।
প্রথমেই আমরা ভাবলাম, আমাদের যারা সদস্য আছে তাদেরকে এটাচড রাখতে হবে। তাদেরকে কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া যাবে না।
কারণ বিচ্ছিন্ন হতে দেয়া মানেই হচ্ছে প্রত্যেককে আতঙ্ক গ্রাস করে ফেলবে।
আমি আগে আলোচনা করতাম না। অনেক কষ্ট করে শিখলাম। শিখলাম, মানুষের সামনে আলোচনা কীভাবে করতে হয়।
করোনায় ফিজিক্যাল প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পড়লাম আরেক বিপদে। মানুষ থাকবে না, কিন্তু আলোচনা করতে হবে। অর্থাৎ সামনে কোন শ্রোতা থাকবে না। দর্শক থাকবে না। কেউ থাকবে না সামনে।
অর্থাৎ ভার্চুয়াল আলোচনা। ঠিক আছে সেটাও করলাম। করার পর যেটা বুঝলাম যে, আমরা একটা নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পেরেছি। আমরা বরং আগে যতটা না সংযুক্ত ছিলাম, করোনাকালে তার চেয়ে আমাদের সংযোগ অনেক বেশি ছিল!
কেউ ফিল করেন নাই যে গুরুজী কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। উনি দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। আমি কাজ করেছি। সবকিছু করেছি।
কেন? কারণ আমার মনে হয়েছে, আমি আমার সন্তানদের ছেড়ে যেতে পারি না। যা হবে একসাথে হবে। হায়াত মউত তো আল্লাহর হাতে।
কিন্তু জানের ভয়ে আমি নিরাপদস্থানে চলে যাব আর আমার ছেলেমেয়েরা অনিরাপদ থাকবে- এটাতো হতে পারে না। সুতরাং আমি আছি।
আমরা কী করলাম? আমরা দেখলাম যে, তখনকার মূল সমস্যা হচ্ছে মানুষ অকারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গেছে।
কীরকম আতঙ্ক! করোনা শুনলে দরজার বন্ধ। করোনা শুনলে বাস থেকে ফেলে দিচ্ছে। করোনা শুনলে মা-কে জঙ্গলে ফেলে রেখে ছেলে-মেয়েরা চলে যাচ্ছে।
করোনা শুনলে ভাই ভাইয়ের কাছে যাচ্ছে না। স্বামী স্ত্রীর কাছে যাচ্ছে না। স্বামী ইটালি থেকে এসেছে, স্ত্রী ঘর থেকে পালিয়ে গেছে।
আমরা ভাবলাম এই ভয়টাকে ভাঙতে হবে।
ভয় ভাঙার জন্যে কী করতে হবে? মানুষের মধ্যে তখন সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছিল লাশ নিয়ে। আমরা লাশ দাফন কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা বিশেষ করে যে মহিলারা, হাউজওয়াইফরা দাফন কার্যক্রমে এসেছেন, অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ছিলেন ‘লীন এন্ড থিন!’ হালকা-পাতলা।
আমি বললাম, আপনি লাশ ধরবেন কীভাবে? তুলবেন কীভাবে? কিন্তু না! পরে দেখলাম তারা চমৎকারভাবেই তা করতে পেরেছেন।
আসলে যখন কেউ মানুষের সেবায়, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে আন্তরিকতা সহকারে নামে, আল্লাহ তখন তার সহায় হন।
তা না হলে ওজনদার মহিলাদের লাশ তাদের পক্ষে তোলা সম্ভব হত না। কিন্তু ঐ যে আল্লাহর রহমত! ফেরেশতারা তখন তাকে সহযোগিতা করে।
এবং পুরো সময়টাকে আমাদের যারা বাইরে বেরুতে পেরেছেন, আমরা কাজ করেছি। আবার কাজ করতে গিয়ে আমরা আমাদের কর্মীদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দেই নাই।
আমরা কিন্তু কারো ফেস কখনো প্রকাশ করি নাই। কারণ তখনো চারপাশের সোসাইটি যা ছিল, যদি জানত যে এই মানুষটা করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফন করে এসেছে, তাকে তো মহল্লাতেই ঢুকতে দিত না।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা মানুষের এই ভয়টাকে দূর করতে পেরেছি। যদি কেউ প্রশ্ন করেন, কোয়ান্টামের এই সাত মাসের সবচেয়ে বড় সাকসেস কী?
সাকসেস হচ্ছে, সাত মাস আগে করোনা শুনলে যেখানে মানুষ পালিয়ে যেত, সাত মাস পরে আজকে নাইনটি সিক্স পার্সেন্ট করোনা রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে ঘরে। তার আপনজনের মাঝে।
এটা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় এচিভমেন্ট। এই এচিভমেন্ট হচ্ছে আমাদের সম্মিলিত এচিভমেন্ট। আমরা সবাই ছিলাম। কেউ সামনে ছিলাম। কেউ পেছনদিকে ছিলাম।
আর সবাই সামনে গেলে তো মিছিল হবে না। কেউ সামনে থাকবে। কেউ পাশে থাকবে। কেউ পেছনে থাকবে। কেউ একটু দূরে সাপ্লাই লাইনে থাকবে।
এই করোনাকালে আমরা আমাদের যে সংঙ্ঘ, যে সংগঠন, যে সদস্যরা, আমরা যে পরস্পরের জন্যে ফিল করি, আমরা পরস্পরের জন্যে দোয়া করি, পরস্পরের প্রতি মায়া আছে, ইট প্রুভস। সবাই সবার খবর রেখেছে।
আমাদের যারা সহযোদ্ধা তারা যে সংক্রমিত হয় নাই তা নয়, হয়েছেন। কিন্তু এটা তাদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি করে নি।
আমি বলেছি এটা হচ্ছে ফ্লু, সিজনাল ফ্লু। তিন দিন, ম্যাক্সিমাম সাত দিন।
এবং যারা সংক্রমিত হয়েছিলেন তারা সবাই সাত দিনের মধ্যে আবার ডিউটি করেছে। আবার কাজ করেছে।
কেন? বিশ্বাস।
আমরা আতঙ্কিত হই নাই। আসলে শোষকরা সবাইকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমাদেরকে পারে নাই।
বরং আতঙ্কের বিরুদ্ধে ‘উই ফট’। আমরা যুদ্ধ করেছি। আতঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল হচ্ছে, যেখানে নাইনটি সিক্স পার্সেন্ট লোক আগে আপনজনকে রেখে পালিয়ে যেত, সেখানে নাইনটি সিক্স পার্সেন্ট লোক এখন আপন রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করছে। হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজনই মনে করছে না। এটা প্রথম আলোর রিপোর্ট।
আমরা এই করোনাকাল থেকে কী বেনিফিট নিতে পেরেছি? আমাদের কী কল্যাণ হয়েছে?
করোনা পরিস্থিতিতে আমরা আগের চেয়ে সঙ্ঘবদ্ধ। আগের চেয়ে আমরা পরস্পরের প্রতি সমমর্মী। আগের চেয়ে আমরা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বেশি। এবং আমরা হেলদি প্রাকটিসটা করতে পেরেছি।
মেডিটেশনে আমরা আগের চেয়ে বেশি নিয়মিত। পুরো করোনাকালে আমরা অনেক বেশি পরিমাণ আলোচনা শুনেছি।
প্রত্যেক সপ্তাহে সাদাকায়ন। শুধু সাদাকায়ন না, এক্সট্রা-এক্সট্রা প্রোগ্রাম।
এই করোনাকালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ সাদাকায়নে এসেছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ শুদ্ধাচার পাঠচক্রে এসেছে।
এবং খতমে কোরআন। মানে এই প্রথমবারের মতো এসোসিয়েটরাও খতমে কোরআনে অংশ নিয়েছে। হাজার হাজার এসোসিয়েটের অনুভূতি কোনো অংশে কম না।
অন্যান্য বছরের তুলনায় আখেরি দোয়াতে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছে!
এবং সিরাত। সিরাত শুধু আমাদের মধ্যে না, ইন এভরি হোয়ার।
আমাদের লোকজন এটা কপি করেছে। তারপরে তা নিজের মধ্যে রাখে নাই। তার যত সার্কেল ছিল, তার সার্কেলের যত সার্কেল ছিল, সবাই সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে। কারণ ঐ সময় তো যে কেউ যে-কোনো একটা জিনিস দিতে পারলে হতো।
আমাদের করোনা সংক্রান্ত যত আলোচনা- এগুলো এমন এমন জায়গায় গিয়েছে, যেখানে আমাদের আলোচনা এর আগে কখনো যায় নি!
কেন?
ঐ সময় একমাত্র আমরা আশার কথা বলেছি। আমরা বেঁচে থাকব- এই ভরসাটা আমরা দিয়েছি।
অন্যরা আতঙ্ক প্রচার করেছে। আমরা আতঙ্কের বিরুদ্ধে বিশ্বাসের প্রচার করেছি।
তারপরে দাফন! যেটা ইউনিক কাজ ছিল।
আমরা আজকে এই যে ৯৬% রোগী ঘরে চিকিৎসা পাচ্ছে এটার কারক হচ্ছে আমাদের দাফন কার্যক্রম।
মানুষে ভেবেছে যে, করোনা যদি এত বিপজ্জনক হবে তো কোয়ান্টাম দাফন করে কীভাবে! কই, দাফনের সঙ্গে জাড়িত তাদের কোনো কর্মী মারা গেছে এরকম নিউজ তো হয় নাই।
আর নিউজ করার জন্যে তো লোকজন বসেই আছে। তাহলে আমি ভয় পাবো কেন?
অর্থাৎ যারা মারা গেছেন, দাফন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের প্রতি যতটা সম্মান প্রদর্শিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রদর্শিত হয়েছে মানুষের ভয় দূর করার জন্যে।
তো আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, করোনাকালে মানুষের ভয় দূর করা। এবং মানুষের কাছে কোয়ান্টাম এখন একটা আস্থার প্রতীক। নির্ভরতার প্রতীক।
কারণ আমরা দায়িত্বহীন কথা বলি না। আমরা হঠকারী কোনো কথা বলি না। আমরা যেটা সত্য, সেটা বলি।
আমরা হঠকারী কিছু বলি নাই। আমরা বলি নাই যে, ‘করোনা ভুয়া’। আমরা বলেছি ‘আতঙ্কটা’ ভুয়া। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই।
করোনা ইজ লাইক ফ্লু। এর চেয়ে বেশি কিছু না। এরপরে ডাক্তাররা তা-ই বলবে। আর কয়েকদিন যাক না! আর ছয় মাস পরে!
এবং দেখেন একটা থেকে আরেকটা কীভাবে সৃষ্টি হয়!
আমরা দাফন কার্যক্রম শুরু করলাম। যেখানে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে দিচ্ছে।
আর আমরা যে বিল্ডিংগুলোতে থাকি সেখানে ফ্লোর খালি হলেই আমরা ভাড়া নিয়ে নিচ্ছি!
ওআইএমসিএ ভবনের নিচতলায় আমাদের কোয়ান্টাম মেডিটেশন হল ছিল। এখন সেটি দুই তলায়। আগের চেয়ে অনেক সুন্দর। এবং আগের চেয়েও প্রশস্ত। আগের চেয়ে বেশি মানুষ ওখানে বসতে পারে। করোনা না হলে এটা হতো না।
শুধু দুইতলা না, ছয়তলাও আমরা নিয়ে নিয়েছি। ছয় তলা যদি ঐসময় ফাঁকা না হতো তো দাফন কাজে নিয়োজিত আমাদের এই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক থাকত কোথায়?
দেখেন আল্লাহতায়ালা কত হেল্প করেন আমাদেরকে! মানে করোনা শুরু হলো, আমরা যখন দাফন কার্যক্রমের ঘোষণা দিলাম, দিতে দিতে ওটার দোতলা এবং ছয়তলা ফাঁকা হয়ে গেল।
এবং আমাদের শান্তিনগরে তিনটা ফ্লোর ফাঁকা হয়ে গেল। আমাদের কাজের জন্যে প্রয়োজন ছিল। উই গট দি ফ্লোর।
আমরা সবসময় বলি ডিপ্রেশন, ইকনমিক ডিপ্রেশন সবার জন্যে ডিপ্রেসিভ না। ডিপ্রেশন তাদের জন্যে যারা ডিপ্রেসড হয়।
আর ডিপ্রেশন এক্সপানশনের কারণ হতে পারে যদি ডিপ্রেশনের মধ্য থেকে আপনি কীভাবে বেনিফিট নেবেন কীভাবে কল্যাণ নেবেন এটা যদি আপনি বের করতে পারেন।
জীবনে সবসময় মনে রাখবেন- আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা হোক, মামলা হোক, মোকদ্দমা হোক, অপপ্রচার হোক, আপনার চিন্তা অপপ্রচার থেকে বাঁচা না, সমস্যা থেকে বাঁচা না, মামলা থেকে বাঁচা না।
আপনার চিন্তা হচ্ছে এটা থেকে আমি কী কল্যাণ নিয়ে আসতে পারি। এটাকে আমার বেনিফিটে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি। যদি আপনি ঐ চিন্তা করেন আপনি এগিয়ে যাবেন।
[আর্ডেন্টিয়ার মিটিং, ১৬ নভেম্বর, ২০২০]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *