ইতিহাসের পাতায় ১৯ অক্টোবর

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৯২তম (অধিবর্ষে ২৯৩তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৯৭২ : বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হন্ডুরাস।
১৯৭২ : বাংলাদেশ ইউনেসকোর সদস্যপদ লাভ করে।

জন্ম
১৮৬২ : আগুস্ত ল্যুমিয়ের, ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্রের অগ্রদূত।
১৮৯৯ : মিগুয়েল আনজেল আন্তুরিয়াস, গুয়াতেমালার নোবেলজয়ী কথাশিল্পী।
১৯০৩ : রাইচাঁদ বড়াল, প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সুরশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক।
১৯২৪ : নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ভারতীয় বাঙালি কবি।

মৃত্যু
১৭৪৫ : ইংরেজ সাহিত্যিক জোনাথন সুইফট।
১৯২২ : যশস্বী বাঙালি লেখক চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়।
১৯৩৬ : মহান চীনা সাহিত্যিক লু স্যুন।
১৯৩৭ : নিউজিল্যান্ডীয় নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড।
১৯৭৪ : বাঙালি কবি ফররুখ আহমদ।
১৯৯৫ : বাংলাদেশের শিল্পপতি জহুরুল ইসলাম।
২০১৪ : বাংলাদেশের ইতিহাসবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমদ।

কবি ফররুখ আহমদ
ফররুখ আহমদ বাংলাদেশি প্রখ্যাত কবি ও শিশু সাহিত্যিক। পুরো নাম ছিল সৈয়দ ফররুখ আহমদ। বাঙালি এই কবি ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁর কবিতায় বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামি ভাবধারার বাহক হলেও তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন এবং বাক্‌প্রতিমার অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার সকল লক্ষণ তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত। তাঁর কবিতায় রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারাবাহিকতা পরিস্ফুট।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে। বাবা খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। মা বেগম রওশন আখতার। ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

ফররুখ আহমদ কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস এবং সিভিল সাপ্লাই অফিসে কয়েক বছর চাকরি করেন। ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি জনপ্রিয় খেলাঘর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তার অনুরূপ সমর্থন ছিল।

সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তার কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। ব্যঙ্গ্যকবিতা ও সনেট রচনায় তার কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনিরা, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, হাতেমতায়ী, হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি। পাখির বাসা, হরফের ছড়া, ছড়ার আসর ইত্যাদি তার শিশুতোষ রচনা। সাহিত্যে বিশেষ অবদানে জন্যে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার প্রাইড অব পারফরমেন্স, আদমজী পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, মরণোত্তর একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *