আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন: শ্রমিক নেতারা
স্টাফ রিপোর্টার
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে “গার্মেন্ট শিল্প সেক্টর”-এ মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। একইসাথে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সমাধান করে নিয়মিত মজুরি প্রদান এবং কর্মসংস্থান ও উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দাবি আদায়ে বুধবার ২০ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও পরে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
“আইন মানছে না সরকার-মালিকপক্ষ” সমাবেশে নেতারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা-১৩৯(৩) অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেই হিসেবে ২০২৬ সালেই নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সরকার ও মালিকরা অতীতের মতোই এ বিষয়ে উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, “চলতি আগস্ট মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন না করা হলে শ্রমিক-কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। আমরা আর টালবাহানা মেনে নেব না।”
শ্রমিকের ঘামে দেশ এগোচ্ছে, বিনিময়ে শোষণ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি *ইদ্রিস আলী*। তিনি বলেন, “পোশাক শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শ্রমেই দেশের জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রপ্তানি আয় হচ্ছে। নারীদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকদের শ্রমে গার্মেন্টস মালিকরা সম্পদের পাহাড় গড়ে দৈনিক কোটিপতি হলেও উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা আজও চরম শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। শ্রমিকদের নিরসন পরিশ্রমের মাধ্যমে যে সম্পদ সৃষ্টি হয় তার একটা সামান্য অংশই মজুরি হিসেবে তাদের হাতে পৌঁছায়।”
বক্তারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। এটা শুধু শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারই নয়, এটা সরকারের আইনানুগ ও নৈতিক দায়িত্বও।
সংকটের দায় জনগণের উপর চাপানো যাবে না সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, খাইরুল মামুন মিন্টু, এম.এ শাহীন, আমিনুল ইসলাম, জাহানারা বেগম প্রমুখ।
নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুলনীতি, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপচয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সংকটের বোঝা কোনোভাবেই শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো যাবে না।
“সংকট মোকাবিলার নামে শিল্প-কারখানা বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই, মজুরি বন্ধ কিংবা শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কর্মভার চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না,” বলেন তারা। একইসাথে শিল্পের উৎপাদন সচল রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরি, নিয়মিত মজুরি পরিশোধ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নেতারা।
লাল পতাকা মিছিল সমাবেশ শেষে লাল পতাকা হাতে নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে “অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করতে হবে”, “শোষণ-নির্যাতন রুখে দাঁড়াও” স্লোগান দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য: বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ১১/১ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০। গণঃ রেজিঃ নং- বি-২১৯৬।
