বিয়ের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি কী?

তরুণদের প্রেম ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ অনেক। এই বিষয়ে কোয়ান্টামের ধারণা কি? কারণ এখন বাবা-মা বলেন যে, নিজেরটা খুঁজে নাও। কারণ মেয়েরা এখন ছেলেদের চাইতে বেশি শিক্ষিত হচ্ছে। যখন বিয়ের বয়স হয় তখন বাবা-মা এই বিষয়টি মেনে নিতে পারে না।

১. সময়মতো বিয়ে করা

বিয়ের ব্যাপারে আসলে আমি খুব পরিষ্কার ধারণা দেই। এক হচ্ছে, যারা বিয়ে করবেন তাদের সময়মতো করা উচিৎ।

আর বিয়ের ব্যাপারে শাহরুখ খান খোঁজার আগে ঐশ্বরিয়া খোঁজার আগে নিজের দিকেও তাকানো উচিৎ যে, আমি যে শাহরুখ চাচ্ছি আমি কী? আমি কি ঐশ্বরিয়া? অথবা আমি যে ঐশ্বরিয়াকে চাচ্ছি আমি কি শাহরুখ। তাহলেই কিন্তু আর সমস্যা থাকে না।

এটা উপমা হিসেবে যে, আমরা ছেলেরা হলে ঐশ্বরিয়া খুঁজি, মেয়েরা হলে শাহরুখ খুঁজি। তো আমাকে চিন্তা করতে হবে যে, শাহরুখ আমাকে খুঁজবে কিনা অথবা ঐশ্বরিয়া আমাকে খুঁজবে কিনা? অর্থাৎ আমি সেই জায়গায় আছি কিনা? বিয়ের ব্যাপারটা হচ্ছে, সবসময় এই কমপ্রোমাইজ। অনেক সময় হয়ে যায় শেয়ানে শেয়ানে একদম জোড়ায় জোড়ায় খাপে খাপ মিলে গেল কিন্তু তারপরও দেখা যায় যে টেকে না।

তো অতএব বিয়েটা হচ্ছে, সবসময় সময়মতো করা।

২. ভালো মানুষ, সমসামাজিক, সমসাংস্কৃতিক, সমআর্থিক কিনা খোঁজ নেয়া!

এবং মানুষটা ভালো কিনা এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় পয়েন্ট। দুই হচ্ছে, পারিবারিকভাবে মোটামুটি যায় কিনা। ওভারঅল আচ্ছা ঠিক আছে ফ্যামেলি ওয়াইজ যায়। ব্যস! ভালো মানুষ কিনা এবং পারিবারিকভাবে যায় কিনা।

কারণ বিয়েটা কিন্তু শুধু দুজনের মধ্যে না, এই দুটো পরিবার ইনভলভ হয় এবং দুটো পরিবারে যদি সামাজিক সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক মোটামুটি মিল না হয় তাহলে আল্টিমেটলি এটা সুখের হয় না।

৩. যোগ্যতা নয় বরং মিল আছে কিনা খোঁজ নেয়া

কিন্তু অধিকাংশ সময় মেয়েরা যেটা ভুল করেন যে, না আমি এইরকম এখন আমার এর চেয়ে যোগ্য স্বামী দরকার। এখন আপনার চেয়ে যোগ্য স্বামী তো এরপরে পাবেন না। কারণ মেয়েরা পড়াশোনাতে এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।

তো আপনি সবসময় আপনার চেয়ে যোগ্য পাবেন না। আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে, আচ্ছা আমার সাথে ম্যাচ করতে পারে মিল হতে পারে এরকম কে আছে? আর বিয়ের ব্যাপারে নিজেরা নিজেরা দেখাশোনা করতে কোনো বাধা নাই। কারণ তখন ইউ আর ম্যাচিউড এনাফ।

কিন্তু এখন স্কুলে পড়তে গিয়ে যদি মানে… কারণ আমি যে, চিঠিটা পড়লাম এটা স্কুলের! তো স্কুলে পড়তে গিয়ে যদি বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের জন্যে জীবনপাত হয়ে যায় তখন তো সামনে এগোনো যাবে না।

৪. বিয়ের পর পরিবারের দায়িত্ব পুরুষেরই নেয়া

তো হচ্ছে যে, আপনি যখন ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসছেন আপনি এক-দুই বছরের মধ্যে তো বিয়ে করবেন। তখন আপনাকেই ইনিশিয়েটিভনেস নিতে হবে। এখন মেয়েদেরকে বিয়ের ব্যাপারে ইনিশিয়েটিভ নিতে হবে। কারণ ছেলেরা অধিকাংশ হচ্ছে, বিয়ের ব্যাপারে ইনডিসিশন। দায়িত্ব নিতে ভয় পায়।

তো এখন কী করতে হবে? ভয় পেলে সাহস দিতে হবে তো যে, না তুমি দায়িত্ব না নিতে পারলে আমি দায়িত্ব নেয়ার জন্যে আছি। দায়িত্ব একজন নিলেই হলো। কিন্তু দায়িত্ব নিতে হবে এবং অনেক পরিবার আছে যেখানে ছেলেরা লিড করে অনেক পরিবার আছে যেখানে মেয়েরা লিড করে। দায়িত্ব একজনকে নিতে হবে। দুইজনে বলে যে, না কেউ-ই দায়িত্ব নেবো না তাহলে বিয়ে হবে কীভাবে?

আর ছেলেদের জন্যে এটা মনে করি যে, একজন পুরুষ তার-ই দায়িত্ব নেয়া উচিৎ সবসময়। কেন দায়িত্ব নিতে পারবেন না? হোয়াই নট? পয়সার অভাব? সোজা বলবেন মেয়েকে যে, আমার এই আছে আসো ইউ আর ওয়েলকাম। আর যদি না আসো ইউ আর স্ট ওয়েলকাম।

কিন্তু আমার এই আছে আমি তোমার দায়িত্ব নেব আমি খাওয়ার আগে তুমি খাবে। আপনি খাওয়ার আগে আপনার স্ত্রী খাবে এটা হচ্ছে দায়িত্ব। তো স্ত্রী কি আপনাকে রেখে খাবে? আমি আজ পর্যন্ত এরকম কোনো মহিলার খোঁজ পাইনি যে, তার হাজবেন্ডকে রেখে নিজে খায়।

তো অতএব আপনার তো চিন্তার কিছু নাই। যদি গরিব থাকেন বলবেন যে, দেখ তোমার যদি ভাগ্যে ধন থাকে আমার মাধ্যমেই আসবে। আর যদি তোমার ভাগ্যে ধন না থাকে তাহলে আমি আর কী করব? তোমার ভাগ্যে ধন নাই। অর্থাৎ টেইক রেস্পন্সিবিলিটি। যখন ভাববেন যে, না আমি দায়িত্ব নেব! দেখবেন দায়িত্ব পালন করার জন্যে যা যা দরকার সেই সুযোগটা হয়ে গেছে।

৫. দেখে, শুনে এবং কথা বলে তারপর বিয়ে করা

বিয়ের ব্যাপারটা পরিষ্কার তো? এটা মনে করেন না যে, আমি বিয়ে করার ব্যাপারে যোগাযোগ করতে না করছি। বিয়ের ব্যাপারে অবশ্যই দেখবেন শুনবেন কথা বলবেন তারপরে বিয়ে করবেন।

৬. লিঙ্গারিং না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া

যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তত ভালো। লিঙ্গারিং করবেন দেখবেন যে, কী হচ্ছে? আপনি কনফিউজড হয়ে যাচ্ছেন। যে-কোনো আলোচনা যে-কোনো যোগাযোগ যে-কোনো খোঁজখবর দুই থেকে তিন মাস ম্যাক্সিমাম এর বেশি লিঙ্গারিং যখনই করবেন, বুঝবেন যে এটা হবে না। দুই থেকে তিন মাস। অর্থাৎ তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে যা সময় লাগে।

আর নিজে দুই/তিন বার কথা বললে বুঝতে পারবেন যে, আচ্ছা আমার সাথে যায় কিনা! ভালো হলে ঠিক আছে সবাই ভালো, কিন্তু আমার সাথে তো যেতে হবে। দুই/তিন বার কথা বললেই এটা বুঝতে পারবেন।

[অজেয় তারণ্য, ০৮ মার্চ ২০২৩]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *