ডা. বিধান রায়ের অনন্য চিকিৎসা কৌশল

ডা. বিধান রায়কে হেকিম বা কবিরাজ কেন বলা উচিৎ?

ডা. বিধান রায় যিনি বাংলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসক ছিলেন। এবং কিংবদন্তী চিকিৎসক ছিলেন অসাধারণ ডাক্তার ছিলেন।

আসলে ডাক্তার না বলে তাকে হেকিম বা কবিরাজ বলাটা হচ্ছে বেটার। যদিও উনি উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেছিলেন কোথায়? ইংল্যান্ড থেকে। মেডিকেল সায়েন্সে। কিন্তু তাকে ডাক্তার না বলে তাকে হেকিম বা কবিরাজ বলাটা হচ্ছে বেটার।

আসলে ইংরেজরা এসে প্রথম যে কাজটি করেছে সেই কাজটা হচ্ছে, হেকিম এবং কবিরাজ যারা ছিলেন যারা তিব্যি চিকিৎসা করতেন যারা কবিরাজি চিকিৎসা করতেন হেকিমি চিকিৎসা করতেন তারা রোগীর শুধু ওষুধ না রোগের কারণ ধরে তার প্রতিকার করার চেষ্টা করতেন। তাদের সবচেয়ে বড় জিনিস ছিল পথ্য। ওষুধের চেয়েও পথ্য।

এখন কিন্তু ২০০ বছর পরে পাশ্চাত্য মেডিসিন এখন মনস্তত্ত্ব পথ্যের দিকে এখন নজর দিয়েছে। আগে হেকিমি কবিরাজদের শেষ করেছে। তারপরে এখন যখন দেখছে যে আর শুধু ওষুধ দিয়ে পারছে না তখন মনস্তত্ত্ব মনোবিজ্ঞান এবং পথ্যের ওপরে তারা এখন গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছে।

মনোবিজ্ঞানকে তো মানে মেডিকেল সায়েন্স পাত্তাই দিত না এখন থেকে ৭০ বছর আগে। ১০০ বছর আগে পাত্তাই দিত না। অথচ ইবনে সিনা রোগীর ওপরে মনস্তত্ত্বের যে প্রভাব রোগের ওপরে যে মনস্তত্ত্বের যে প্রভাব অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি প্রয়োগ করেছেন হাজার বছর আগে।

তার দ্য ক্যানন অব মেডিসিন পাশ্চাত্যে ৫০০ বছর টেক্সট বই হিসেবে পড়ানো হয়েছে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে।

কেন তারা হেকিম কবিরাজি সিস্টেমটাকে নষ্ট করেছে ধ্বংস করেছে? কারণ তাহলে তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের ওষুধ বিক্রি করতে পারবে ভালোভাবে সেইজন্যে।

তিনি বিনা পয়সায় রোগী দেখতেন, রোগী দেখলেই বুঝতে পারতেন যে কী হচ্ছে…

তো এই বিধান রায় উনি ছিলেন সত্যিকারের কবিরাজ বলেন হেকিম বলেন মহা কবিরাজ মহা হেকিম। রোগী দেখলে বুঝতে পারতেন যে কী হচ্ছে।

উনি তখন মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিম বাংলার। ব্যস্ততা তো অনেক। আর ডাক্তার হিসেবে তো তিনি কিংবদন্তী হয়ে গেলেন। তো এর মধ্যেও তিনি কী করতেন? প্রত্যেক দিন ১৬ জন রোগী দেখতেন, বিনা পয়সায়।

এক রোগীর ঘটনা!

এক ভদ্রলোক পুকুরে গোসল করেছে গ্রামের ভদ্রলোক। পুকুরে রেগুলার গোসল করে। একদিন গোসল করার পরে কিছুক্ষণ পর থেকেই তার মানে মনে হচ্ছে যে, মাথাতে অনেক কিছু কামড়াচ্ছে। এবং এত ব্যথা মাঝেমাঝেই ফিট হয়ে যায় অজ্ঞান হয়ে যায়।

তো স্বাভাবিকভাবেই গ্রামের মানুষ প্রথমে তো টোটকা টোটকা করে দেখল যে, কিচ্ছু হচ্ছে না। তখন বলে যে, না ঠিক আছে কলকাতায় বিধান রায়ের কাছে এসে উপস্থিত তার চেম্বারে।

তো সে যখন এসে উপস্থিত, প্রত্যেক দিন ১৬ জন ১৬ জন শেষ এ হচ্ছে ১৭ নম্বর। এখন বিধান রায় তো সময় খুব অনুসরণ করতেন। উনি বললেন যে, না আজকে না। কিন্তু রোগী তো ব্যথার চোটে অজ্ঞান হয়ে চেম্বারে পড়ে আছে।

তো স্বাভাবিকভাবেই রোগী অজ্ঞান হয়ে আর বিধান রায় খুব ভালো মানুষ ছিলেন। খুব দয়ালু মানুষ ছিলেন। তো রোগীর যারা এটেন্ডেন্ট এসছে তাদের কাছ থেকে শুনলেন যে, কী ঘটনা কখন থেকে হচ্ছে? যে এরকম ঘটনা- পুকুরে থেকে গোসল করে ওঠার কিছুক্ষণ পরে এই অবস্থা হয়েছে।

ডা. বিধান রায় দিব্যজ্ঞানে দেখতে পেলেন- পিঁপড়া ঢুকেছে রোগীর কানে!

তো বিধান রায় কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে একটু চিন্তা করলেন। চিন্তা করে বললেন যে, ঠিক আছে একে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে দাও এবং এখানে শুইয়ে রাখো বেঞ্চের ওপরে। চিৎ করে শুইয়ে রাখো।

এবং কাঁঠালের দুই তিন কোষ দুই কানের দুই পাশে রেখে দিতে বললেন।

তো ঘণ্টা দুয়েক পরে দেখা গেল যে, কান থেকে পিল পিল পিল পিল করে পিঁপড়া বেরোচ্ছে। কারণ কাঁঠাল আবার পিঁপড়ার খুব খুব প্রিয় জিনিস। খুব পছন্দের।

কান থেকে পিল পিল পিল পিল করে পিঁপড়া রেরোচ্ছে। এবং তারপরে তার ঘুমের ওষুধের যখন ডোজ কমলো তার হুঁশ হলো এবং সুস্থ হয়ে গেল তার ব্যথাট্যথা সব দূর হয়ে গেল।

তো পরে বিধান রায়কে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, সে বলছে মাথা ব্যথা আর আপনি কানের দুই পাশে কাঁঠাল কেন? বলে যে আমি যখন… আসলে একজন ভালো মানুষ তার পক্ষে কিন্তু দিব্যজ্ঞান লাভ করা খুব সহজ হয়। যে আমি দিব্যদৃষ্টিতে দেখলাম মনে হলো আমার কাছে (দিব্যদৃষ্টিতে দেখা মানে হচ্ছে মনে হওয়া) যে, যখন পুকুরে নেমেছিল পুকুরে তো অনেক সময় পিঁপড়া থাকে মানে বিশেষত যে পুকুরে কচুরিপানা থাকে।

যে উনি জিজ্ঞেস করলেন যে, কচুরিপানাযুক্ত পুকুর কিনা? বলে যে, হাঁ। তো কচুরিপানা থেকে যেভাবে হোক পিঁপড়া তার কানে ঢুকে গেছে। পিঁপড়া তো ভেতরে ঢুকে আছে।

যখন পিঁপড়া কামড় দেয় স্বাভাবিকভাবেই কান তো সেনসিটিভ জায়গা পিঁপড়াও মজা পাচ্ছে যে, ওখানে তো আছা ঠিক আছে। ভালোই তো আছি। সফট জায়গায় সে মজা করে কামড় দেয় আর এদিকে যাকে কামড় দেয় তার অবস্থা তো খারাপ।

ওষুধ না দিয়ে, দিলেন কাঁঠাল কোষের চিকিৎসা!

তো এইজন্যে তার কানের কাছের তাকে দেখলাম যে, ওষুধটষুধ দিয়ে কোনো লাভ নাই। পিঁপড়া বের করতে হবে এখন কানের অপারেশন তো তখন ঐভাবে শুরু হয় নাই। তাহলে উপায়টা কী? ঠিক আছে।

দেখেন, বুদ্ধি! যে কাঁঠালের কোষ পাকা কাঁঠালের কোষ রেখে দাও। এটার গন্ধে পিঁপড়া নিজেই চলে আসবে। পিঁপড়া বেরিয়ে চলে এলো এবং তার মাথাব্যথা মাথাযন্ত্রণা মাথা কামড়ানি বন্ধ হলো।

তো এই যে অন্তর্দৃষ্টি এই যে বুঝতে পারা এটা হচ্ছে প্রজ্ঞা।