ভাষাগুরু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ও কর্ম সংক্ষেপ!
আমরা জানি বাঙালি যা আজ চিন্তা করে অন্যরা চিন্তা করে । এমনি এক মহান বাঙালির জন্মদিন এই জুলাই মাসের ১০ তারিখে। আজ থেকে ১৪০ বছর আগে ১৮৮৫ সালে।
ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯) সত্যিই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চেতনার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তাঁর অসামান্য অবদান বাংলা ভাষার ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
তাঁর কীর্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
ভাষাবিজ্ঞান ও ইতিহাস গবেষণা: – বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গভীর গবেষণা করেন। তাঁর “বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থ বাংলা ভাষাতত্ত্বের মৌলিক রচনা।
সংস্কৃত ছাড়াও বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য (প্রাকৃত, পালি) নিয়ে যুক্তিনিষ্ঠ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা: – ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি অকুতোভহ সমর্থন দেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পাশাপাশি বাংলার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি: “আমার মাতৃভাষা বাংলা” জাতীয় চেতনার মন্ত্র হয়ে ওঠে।
সাহিত্য-সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার: চর্যাপদ, মৈমনসিংহ গীতিকা, রবীন্দ্র-নজরুল গবেষণায় তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। – “বাংলা সাহিত্যের কথা” (২ খণ্ড) বাংলা সাহিত্যের প্রামাণ্য ইতিহাস।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে নেতৃত্ব দেন। “বাংলা একাডেমি” প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। তাঁর জীবনাদর্শ ও পাণ্ডিত্য ভাষা-সচেতনতা জাগরণের আলোকবর্তিকা। বাংলা ভাষার বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি, ঐতিহ্যবাহী শিকড়ের সন্ধান এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে ডক্টর শহীদুল্লাহর নাম চিরঅম্লান। “তিনি ছিলেন বাংলার মনীষার এক মহীরুহ।”
তিনি হচ্ছেন আমাদের ভাষাগুরু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ভাষাবিদ ছিলেন। হিব্রু, গ্রিক, সংস্কৃত, ল্যাটিন, আরবি, উর্দু, ফারসি, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মানি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, সিংহলি, সিন্ধিসহ ২৪টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন। এর মধ্যে ১৮টি ভাষায় তার অসাধারণ পাণ্ডিত্য ছিল। এই ভাষাগুলোতে তিনি অনর্গল বক্তৃতা দিতে পারতেন। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ মুক্ত বুদ্ধির মানুষ। শুদ্ধ জীবনাচারের অনুসারী। নিয়মিত আত্মমগ্ন পাঠক।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন প্রতিদিনই মাগরিবের নামাজ আদায় করে বই নিয়ে বসি। এক মনে রাত ১১টা পর্যন্ত পড়ার পর এশার নামাজ আদায় করে তারপর ভাত খাই, তারপর শুয়ে পড়ি।
শুদ্ধ জীবনাচারের অনুসারী হওয়ায় হেলদি লাইফস্টাইল অনুসরণ করায়, ৮০ বছর বয়সেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়ে জিতেছেন। প্রতিদিন আট ঘণ্টা পড়তেন।
তিনি ছিলেন, বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ গুরুত্ব অনুধাবনকারী!
তিনি ছিলেন তার সময়কার সবচেয়ে বড় ভাষা বিশেষজ্ঞ আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে ছিলেন জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। বাংলা ভাষার বিশাল অভিধান এবং বাংলা পঞ্জিকার সংস্কার তার অবিস্মরণীয় কীর্তি।
তবে ভাষাগুরু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাঙালির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ গুরুত্ব অনুধাবনকারী ও ভাষা আন্দোলনের সাহসী অগ্রপথিক হিসেবে।
এখন থেকে ১০৭ বছর আগে ১৯১৮ সালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথসহ অধিকাংশ ভাষাবিদ হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দেন।
তখন তরুণ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন শুধু ভারতবর্ষে কেন সমগ্র এশিয়া মহাদেশেই বাংলা ভাষার স্থান হবে সর্বোচ্চ।
তার এই বক্তব্যের পেছনে আমরা খুব বাস্তব যুক্তি দেখতে পাই। কারণ বাংলার মানুষ যেমন উদার ও গতিময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন জাতের মানুষকে যেমন বাংলা তার জীবনধারায় লীন করে নিয়েছে একইভাবে প্রাকৃত তৎসম তদ্ভব পালি সংস্কৃত আরবি ফারসি ইংরেজিসহ বহু ভাষার শব্দের অসাধারণ সমন্বয় ঘটেছে বাংলা ভাষায়। বাংলা পরিণত হয়েছে একটি সার্বজনীন মিষ্টি ভাষায়। আর পৃথিবীর দ্রুত বেড়ে ওঠার ভাষার তালিকায় বাংলার অবস্থান এখন চতুর্থ।
ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন বাতিঘরের মতো!
১৯১৮ সালে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ-র এই প্রস্তাবকে কেউ গুরুত্ব না দিলেও তিনি বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
পাকিস্তানের জন্মের আগেই ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়া উদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে মত প্রকাশ করেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি ২৯শে জুলাই তখনকার সবচেয়ে প্রভাবশালী দৈনিক আজাদ-এ এক নিবন্ধে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার যুক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
ভাষার আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন আমরা স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে থেকে। এককথায় আমরা বলতে পারি আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বাতিঘরের মতো। ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। ২১শে ফেব্রুয়ারির শহীদদের কথা জেনে প্রথম কালো ব্যাজ ধারণ করেন তিনি। নিজের কালো আচকান কেটে তিনি এই ব্যাজ বানিয়ে ছিলেন।
সন্তানকে মায়ের ভাষায় ভালোভাবে বলতে পড়তে ও লিখতে শেখান- গুরুজীর বিনীত অনুরোধ!
ভাষাগুরু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ-র ১৪০তম জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আপনাদের সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাতে চাই।
অনুরোধটি হচ্ছে- আপনার সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, তাকে মায়ের ভাষা বাংলা ভালোভাবে বলতে পড়তে ও লিখতে শেখাতে কোনো অবহেলা করবেন না। তাকে যে মিডিয়াম যে ভার্সনে পড়ান, যদি তাকে মায়ের ভাষায় স্বতঃস্ফূর্ত না করেন, যদি মায়ের ভাষা সহজ স্বাভাবিকভাবে বলতে পড়তে লিখতে না পারে, তবে আজ হোক বা কাল হোক সে মাকে ভুলে যাবে। মাতৃভূমিকে ভুলে যাবে। সে তার শিকড় থেকে আলাদা হয়ে যাবে। বিচ্ছিন্ন ভাসমান শেওলার মতো বিদেশ বিভুঁইয়ে নিঃসঙ্গতা ও বিষণ্নতায় ডুবে যাবে।
ভাষাগুরু ড. শহীদুল্লাহ মায়ের ভাষাকে ভালবেসেছেন। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তার জীবন ছিল সুস্থতা জ্ঞান সাহস বিশ্বাস কর্ম আশাবাদ প্রাণোচ্ছলতা ও ভালো থাকার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
আপনিও তার মতো মায়ের ভাষাকে ভালবাসুন। সুস্থ জীবনাচার বা হেলদি লাইফস্টাইল অনুসরণ করুন। মানুষের কল্যাণে কাজ করুন আপনিও সুস্থ থাকবেন ভালো থাকবেন।
ভালো থাকার ক্ষমতা প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত আছে। একে সবসময় সক্রিয় রাখার জন্যে আমার সাথে বলুন,
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
ভালো ভাবব ভালো বলব ভালো করব ভালো থাকব।
আপনার ইতিবাচক শক্তি ভালো থাকার শক্তি আপনার জীবনকে সব নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখুক। আপনি ভালো থাকুন সবসময় ভালোর সাথে থাকুন।
[ ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে গুরুজীর প্রদত্ত বক্তব্য]
